জীবন সঙ্গী (সপ্তম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Monday, December 23, 2019

জীবন সঙ্গী (সপ্তম পর্ব)

জীবন সঙ্গী (সপ্তম পর্ব)
লেখকঃ নাসির ইসলাম মাহিম
.
ফজরের নামাজ পড়ে এসে মাহিম অফিসের কিছু কাজ ছিল সেগুলো করে অফিসে যায়। হিমির শরীরে হালকা হালকা জ্বর। মাহিম সকালে মেডিসিন এনে অফিসে যায়। হিমি শুয়ে আছে। সকালে মাহিম সব নিজ হাতে রান্না করে দিয়েছে গেছে। হিমি ঘুমে ছিল, তাই মাহিম তাড়াতাড়ি রান্না করে ফেলে। মাহমুদা বেগম অনেক বলে কিন্তু কথা শোনেনি।

সকাল ১০ টা বেজে গেছে। এখনও ঘুমাচ্ছে। মাহমুদা বেগম একবার উঠে খাইয়ে দিয়ে যায়।
---হ্যালো।
---জ্বর কমেছে।
---হুম।
---মিথ্যে বলো কেনো।
---হুম।
---এখনও ঘুম চোখে।
---হুম।
---হাহাহাহা ঘুমো।
.
হিমি ফোন কেটে গেলে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। মাহিম ফোন কেটে হাসতে থাকে আনমনে। মনে মনে বলে উঠলো,"পাগলী" একটা। মাহিম আবার কাজে মনোযোগী হয়।

বিকেল বেলা অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরে। হিমিকে ফোন দিয়ে রেডি থাকতে বলে মাহিম। মাহিম এসে পোশাক চেন্জ করে হিমিকে নিয়ে বের হয়।
আচ্ছা! ডক্টরের কাছে না গেলে হতো। সাধারণ মেডিসিন খেলে হতো।
বেশি বোঝ না বুঝলে।
আমার ডক্টরের কাছে যেতে ইচ্ছে করে না।
ইচ্ছে না করলেও যেতে হয় মাঝেমধ্যে। এতে দুঃচিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আর আমি আপনার জ্বর কদিন ধরে।
.
হিমি আর মাহিম ডক্টরের সামনে বসে আছে। ডক্টর আর কেউ না, মাহিমের ফ্রেন্ড ফারজানা।
---কিরে তুই বিয়ে করলি কবে?
.
মাথা নিচু করে লিখতে লিখতে বললো ডক্টর ফারজানা। মাহিম নিচুস্বরে বললো,
---১ মাস হলো।
---তুই আমাকে একটাবারও জানালিনা। তুই এতোটা স্বার্থপর হতে পারলি!
আরে কোন ফ্রেন্ডকে বলিনি। সাধারণভাবে ঘরোয়া ভাবে বিয়ে করেছি।
.
ফারজানা মাথাটা তুলে তাকালো মাহিমের দিকে। তারপর বললো,
লাভ ম্যারেজ করে নাকি হু,
.
কথাটা বলে ফারজানা গাল টিপে হাসে।
---সেরকমও না।
---তাহলে,
তুই না ডক্টর না হয়ে উকিল হলে ভালো হতো। তাহলে বড় মাপের উকিল হতে পারতি। যেভাবে জেরা করিস রে বাবা!
.
ফারজানা হাসে সাথে মাহিম। হিমিও গাল টিপে হাসে।
কিরে কিছুই বললি না। কোন বড়সড় সমস্যা নাকি?
আরে না। এমনিতে ওয়েদার চেন্জ হলে, আর নতুন নতুন বিয়ে হলে এরকম হয় আরকি।
.
কথাটা বলে অট্টহাসি হাসে ফারজানা। মাহিম হাসে। হিমি কিছুটা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেলেছে।
তুই না! তুই তো এত পাকনা ছিলি না। পাকনা হলি কবে? নিশ্চয় বর খুব বকা দেয়।
আমি এখনও বিয়ে করি নাই।
.
মাহিম রিতিমতো অবাক হয়। কয়কি ফারজানা।
তোর খালাতো ভাইয়ের সাথে তো তোর বিয়ে ঠিক। তাহলে এখনও করিস নাই।
সে তার বিজনেস নিয়ে বিজি। আগে ইস্টাবলিশ হবে তারপর বিয়ে।
---এই কথা।
দেখ! আমরা দুজন বকবক করে যাচ্ছি, অথর্চ ভাবির নামটা জানা হলো না।
পুরনো বন্ধু পেলে সব ভুলে যায় সবাই তাই কতশত না বলা কথা নিমিষে বলে যাচ্ছি।
তা ভাবির নামটা কি রে?
তা তোর ভাবিকে জিজ্ঞেস কর।
ভাবি আপনার নাম কি?
---জ্বি হিমি।
.
মাথা নিঁচু করে বলে হিমি। ফারজানা বলে,
---শুধু হিমি।
জ্বি, হুমায়রা রহমান হিমি।
---মাসআল্লাহ্! অনেক সুন্দর নাম তো।
---জ্বি,,
আরে ভাবি লজ্জা পাচ্ছেন কেনো। আমরা দুজন ক্লোজফ্রেন্ড। বলতে পারেন দুজন এক আত্মা।
জ্বি।
আপনি কি আনইজি ফিল করছেন?
---জ্বি, না, না না।
.
ফারজানা অট্টহাসি হাসে। মাহিমও গাল টিপে হাসে।
-কিরে, ভাবিকে তুই জ্বি জ্বি শিখাইছিস নাকি রে?
---জ্বি,
---শেষ পর্যন্ত তুইও,
---আরে না। মজা করলাম।
.
ফারজানা প্রেসক্রিপশন মাহিমকে দিতে দিতে বলে,
শোন, এখানে কিছু ঔষুধ লিখে দিয়েছি। সেটা ঠিকমতো খেতে হবে।
---ঠিক আছে।
আর আন্টিকে দেখিয়ে নিয়ে যাস তো। অনেকদিন হয়ে গেলো।
তুই আমাদের বাসায় গিয়ে দেখে আসিস। আমি আর নিয়ে আসতে পারবো না।
ঠিক আছে। সময় নিয়ে যাবো একদিন।
.
মাহিম আর হিমি ফারজানার চেম্বার থেকে বের হয়ে বাসার উদেশ্যে রওনা হয়। হিমির দিকে একবার তাকিয়ে মাহিম কিছু বললো না।

সামনে একটা রেস্টুরেন্ট দেখে মাহিম বললো,
আজকে বাহির থেকে খাবার কিনে যায় কি বলো?
বাসায় রান্নাকরা হয়েছে তো।
সেগুলো ফ্রিজে রেখে দিও।
---আপনার যা ভালো মনে হয়।
.
মাহিম আর হিমি রেস্টুরেন্টে ঢুকে গেলো। চারপাশে প্রত্যহ টেবিলে অল্পবয়স্ক ছেলে মেয়ে বসে খাবার খাচ্ছে আর হাসিঠাট্টা করছে। হিমি মাহিম এক কোণায় গিয়ে বসে। হিমি সবার সামনে আনইজি ফিল করছে।
কি খাবে বলো? কফি, না বার্গার?
---আপনি যেটা খাবেন।
---আরে তোমার পছন্দের খাবার নেই। বলো। সেগুলো অর্ডার দেই।
আসলে আমি সবার মাঝে খেতে পারি না। মানে, এরকম পরিবেশে কখনও খায়নি তো তাই।
.
মাহিম কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়। সেটা বলা আদৌ ঠিক হবেনা। পুরনো স্মৃতি মনে পড়িয়ে দিতে ভালো।
আচ্ছা, কফি খাই কেমন। আর খাবার নিয়ে বাসায় খাবো।
---জ্বি!
.
মাহিম ওয়েটার বয়কে ডেকে দুটা কফির অর্ডার দেয়। হিমি বসে আছে। কোন কথা বলছেনা।
হিমি! তুমি কি বেশি অসুস্থ বোধ করছো?
---না।
---তাহলে খুব বোরিং ফিল হচ্ছো।
আজকে খুবই খারাপ লাগছে। তাড়াতাড়ি বাসায় চলুন।
.
মাহিম আর কফি শেষ করে বসে আছে। রাত অনেক হয়েছে।
আপনি এখানে ৫ মিনিট বসুন। আমি গিয়ে খাবার নিয়ে আসি। হয়তো খাবার প্যাকিং করা হয়ে গেছে।
.
হিমি মাথা নাড়ায়। মাহিম চলে যায় খাবারের জন্য। হিমি পুরনো স্মৃতি ভেসে বেড়াচ্ছে আশেপাশে এরকম পরিবেশ দেখে। সেদিন ছিল শুক্রবার! আহিনের অফিসের ছুটির দিন। রাতে ঠিক করে তারা আজ রাতে ডিনার করব বাহিরে। রাতে দুজন প্লানিং করে, কোথায় ডিনার করা যায়। দুজনে মিলে ঠিক করে ক্যানডেললাইট দিয়ে তারা কাল রাতে ডিনার করবে। সব ঠিকঠাক করে দুজন ঘুম দেয়।

জুম্মার নামাজ পড়ে এসে খাবার খেয়ে শুয়ে আছে আহিন। হিমি বাসার টুকটাক কাজ করছে। বিকেল হলে হিমি আহিনকে ঢেকে দেয়। আহিন ঘুম ঘুম চোখে বলে,
কি হলো ঘুমের ডিস্টার্ব করো না তো। যাও,
তোমাকে ফোন দিয়েছে।
কে ফোন দিয়েছে?
---তোমার কলিগ।
.
আহিন চটপট ঘুম থেকে পরে। ফোনটা হাতে নিয়ে বারান্দায় আহিন। হিমি আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

হিমির কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো করে ফ্রি হয়ে সাজগোছ করতে হবে হিমির। এদিকে আহিন বারান্দায় কথা বলছে।
কতবার ফোন দিয়েছি বলো তো। সারাদিন খালি ঘুমাও নাকি।
আর বলিও না। আজ ছুটি ছিল তাই নামাজ পড়ে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
আচ্ছা বাদ দাও। বলো, কখন বের হবো।
কখন আবার। ডিনার কখন করে বলো।
আমি সন্ধ্যার পর পর বের হবো।
তুমি ওই রেস্টুরেন্টে আসো কেমন।
এভাবে কতদিন। তুমি মেয়েটাকে কবে ডিভোর্স দিবে?
খুব শীঘ্রই ডিভোর্স দিয়ে দেব। কোন টেনশন করো না এটা নিয়ে। বুঝলে।
---ঠিক আছে বাবু।
বাবু এখন রাখছি। ফ্রেশ হতে হবে।
তাড়াতাড়ি আসো কেমন।
---ঠিক আছে বাবু।
.
ফোনটা রেখে আহিন ফ্রেশ হতে যায়। হিমি সব কাজ শেষ করে এসে সাজগোছ করতে বসেছে। সন্ধ্যে নেমে এসেছে। একটু পর হিমি আহিনের সাথে ডিনার করতে বের হবে। ভাবতেই হিমির মনের ভেতর এক অজানা সুখ কাজ করছে। আজ খুব খুব ভালো লাগছে হিমির।

আহিন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখে। হিমি সাজগোছ করছে। বেশ সুন্দর লাগছে। আহিন হিমির পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। হিমি আয়নার দিকে আহিনকে দেখছে। আহিন অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হিমি দাঁড়িয়ে যায়। আহিন হিমিকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে চুমু দেয়। হিমি কিছুটা কেপে উঠলো। চোখ বন্ধ করে ফেলে। আহিন অনেকদিন পর এভাবে হিমিকে জড়িয়ে ধরেছে। আহিন হিমির ঘাড়ে নাক ডাবিয়ে বলে উঠলো,
---হিমি তোমাকে একটা কথা বলি?
.
হিমি চোখ খুলে আয়নার দিকে আহিনকে দেখে বলে,
একটা কেনো, হাজারটা বলো। আমি শুনতে রাজি আছি।
.
আহিন ক্রমশ হিমিকে চুমু দিয়ে যাচ্ছে হিমিকে। হিমি পাগল হয়ে যাচ্ছে আহিনের ভালোবাসায়। কিছু বলছে না। হিমি আহিনের দুহাতটা পেটের কাছে চেপে ধরে বললো,
কি হলো বলো না। কি বলবে?
---আজকে আমার একটা জরুরি কাজ ছিল।
---তো!
---অন্যদিন ডিনার করি।
.
হিমি আহিনের থেকে ছাঁড়িয়ে নেয়। মুখটা মলিন হয়ে যায়। চোখেমুখে যে হাসি ছিল তা এক নিমিষে শেষ হয়ে যায়। আহিনের দিকে ঘোরে। আহিন আবার হিমিকে কাছে টেনে নেয়। জড়িয়ে ধরে হিমিকে। তারপর চোখেচোখ রেখে বলে,
---কি হলো মন খারাপ করলে তুমি।
---না।
.
আহিন হিমির ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলে,
কি হলো বলো না। রাগ করলে বুঝি।
.
হিমি আহিনের বুকের মাঝে মুখগুজে।
---না। আর এতে রাগ করার কি আছে। আজকে না যেতে পারলে অন্য একদিন যাবো। কি নিয়ে যাবেনা।
.
আহিন হিমির কপালে চুমু খেয়ে বলে,
---এই তো আমার বউ এর বুদ্ধি আছে।
---আচ্ছা কখন যাবে তুমি।
---এই তো এখন।
---তাহলে রেডি হও।
.
আহিন হিমিকে ছেড়ে দিয়ে রেডি হচ্ছে। বার বার ফোন বেজে উঠছে। হিমি বারান্দা থেকে আসতে আহিন ফোনটা হাতে নিয়ে কল কেটে দেয়। হিমির দিকে তাকায়।
---কল ধরছো না কেনো? আর কে ফোন দিচ্ছে?
---অফিসের এক ক্লাইন্ড।
.
কথাটা বলতে আবার ফোন আসে। হিমি স্থির চোখে তাকায়। দেখে সেই নাম। আহিন রিসিভ করে করতে ফোনের উপর প্রান্তে থেকে বলে উঠে,
কি হলো। তোমার আসতে এত লেট কেনো। বউকে রেখে আসতে মন চায় না বুঝি।
আরে আর একটু লেট করো। আমি খুব দ্রুত আসতেছি। আর স্যারকে একটু অপেক্ষা করতে বলো।
---তাড়াতাড়ি আসো।
.
ফোন কেটে তাড়াহুড়া করে রেডি হয়ে আহিন বের হয়ে যায়। যাবার সময় আহিন বলে উঠে,
হিমি রাতে খেয়ে নিও। আমার আসতে লেট হবে,
.
হিমি চোখ দিয়ে অশ্রু ঝর্ঝরিত। কতটা না খুশি হয়েছিল হিমি। একনিমিষে শেষ হয়ে গেলো। আজকে আমাকে রেখে কাজটা বড় হয়ে গেলো।
---হিমি, এই হিমি। তুমি কাঁদছো কেনো?
.
আহিনের কথায় হিমির ভাবনা থেকে বের হয়ে আসে। চোখের পানি মুঁছে ফেলে।
---কাঁদতেছো কেনো?
---কিছুনা।
---আসলে আমি স্যরি। এক ফ্রেন্ড ফোন দিয়েছিল। তাই কথা বললাম। অনেকটা বসিয়ে রেখেছি। স্যরি।
.
অপরাধের মত মাহিম কথাগুলো বললো। হিমি কিছুই বুঝতে পারছেনা। কি বলবে।
---কি হলো কথা বলো।
---আমি বাসায় যাবো। আপনি আমাকে বাসায় নিয়ে যান।
.
মাহিম আর কিছু বললো না। খাবারের প্যাকেট নিয়ে তাড়াতাড়ি রওনা দেয়। মাহিমের মনের ভেতর ভালো লাগছেনা। কাজটা মোটেও ঠিক হইনি একা একা রেখে কথা বলতে। যাহোক বাসায় গিয়ে আবারও স্যরি বলবো।

বাসায় এসে হিমি রুমের ভেতর চলে যায়। মাহিম খাবার রেখে হিমির পিছন পিছন চলে যায়। হিমি গিয়ে বিছনায় বসে পরে। মাহিম হিমির পাশে গিয়ে বসে। হিমির হাতটা ধরে কেঁদে ফেলে। হিমি অবাক হয়ে যায়। মাহিমের কান্না দেখে।
---আপনি কাঁদছেন কেনো?
.
মাহিম হিমির হাত ধরে বলে,
---আমি স্যরি।
.
হিমি অবাক হয়ে বলে,
স্যরি কেনো বলছেন? আর কাঁদতেছেন কেনো?
আমি তখন ওখানে একা একা বসে রেখেছি বলে মন খারাপ করেছেন। কেঁদেছেন তাইনা।
.
হিমি কি বলবে বুঝে উঠে পারছেনা। লোকটা কি মনে করেছে। আমি তো অন্য একটা কিছু।
কি হলো বলো। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছ।
.
হিমি কিছু না বলে মাহিমের বুকে মাথাগোজে। মাহিম আর কিছু না বলে হিমিকে জড়িয়ে ধরে, মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
আমি খাবার রেডি করছি আপনি ফ্রেশ হয়ে আসেন।
.
হিমি চলে যায় চোখটা মুঁছে। মাহিম কিছু একটা মনে মনে ভেবে ওয়াশরুমে ডুকে যায়।

মাহিম খেয়েদেয়ে মায়ের রুমে চলে যায়। দেখে মাহমুদা বেগম আধশোয়া অবস্থায় বই পড়ছে। মাহিমকে দেখে বলে,
কি রে দাঁড়িয়ে কেনো। বস আমার পাশে।
.
মাহিম গিয়ে মায়ের পাশে বসে। কিছু বলছেনা। মায়ের কোলে মাথা রাখে। মাহমুদা বেগম বললো,
---বৌমাকে কিছু বলেছিস।
---না। কেনো?
---বৌমার মুখটা দেখে মনে হলে কিছু একটা হয়েছে। মুখটা শুকনো শুকনো লাগছিল তাই।
---সেরকম কিছুই হয়নি।
---ডক্টর কি বলেছে?
---সেরকম কিছুই না।
---দেখ স্বামী স্ত্রীর ভেতর মান-অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি হবে। এতে ঘাবড়াবিনা। যেন একজন, নিজের ভুল না থাকলে, চুপ করে সব মেনে নিবি। তুই নিজ থেকে স্যরি বলবি।
.
মাহিম মাথা নাড়ায়।
শোন, স্যরি বললে কিন্তু, ছোট হয়ে যায় না। পৃথিবীতে সব স্বামী স্ত্রীর মাঝে মান-অভিমান হয়। এতে নিজেকে কঠিন বানাবিনা। বুঝলি। সব ছেড়ে মেয়েরা শ্বশুড়বাড়িতে আসে। তাই তাদের মাঝে অনেক দুঃখ, কষ্ট, একাকিত গ্রাস করে। তাই কখনও কখনও সামান্য কিছুতে রেগে যায়, অভিমান করে। তুই যদি একটু কেয়ার করিস। তাহলে সেই স্বামী স্ত্রীর মাঝে কখনও দুঃখ, কষ্ট গ্রাস করবেনা। আর মনে রাখবি, রাগ করে কোন ডিসিশন নিবি না। ঠান্ডা মাথায় ভেবে কাজ করবি। তার কি ভুল পরে বুঝিয়ে বলবি। তখন কিছুই বলবিনা।
ঠিক আছে মা।
তুই এখন যা। স্যরি বলে ঘুমিয়ে যা।
ঠিক আছে।
---গুড নাইট। আল্লাহ্ হাফেজ।
.
মাহিম মায়ের রুম থেকে নিজের রুমে চলে আসে। দেখে হিমি কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে গেছে। টেবিলের উপর ঔষুধ রাখা। না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। মাহিম গিয়ে হিমির কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর আছে কিনা। কপারে হাতের অনুভব পেয়ে হিমি চোখ খুলে দেখে মাহিম।
তুমি ঔষুধ খাও নি।
খেতে ইচ্ছে করছেনা। এত বড় ঔষুধ, ক্যাপসুল খেতে পারবোনা।
.
মাহিম কোন কথা না শুনে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে ঔষুধ দেয় হিমিকে। হিমি খেতে না চাইলে মাহিম জোর করে খাইয়ে দেয়।
আর খাবো না ঔষুধ।
বেশি কথা না বলে ঔষুধ সবগুলো নিয়মমিতো খাবে। এখন ঘুমাও।
.
হিমি বিছানায় ভালো করে শুয়ে পড়ে। মাহিম কাঁথাটা হিমির শরীরে দিয়ে কপালে উষ্ণণ ঠোঁটে  চুমু খেলে হিমি কেপে উঠে। এ কেমন অনুভুতি হয় ছুঁয়ে যায় হিমি। মাহিম মৃদু হাসি দেয়।
---এবার নিশ্চিতে ঘুমান।
.
মাহিম লাইট অফ করে সোফাতে শুয়ে পড়ে। একটু মাথা তুলে দেখে হিমি চোখ বুঝে ঘুমিয়ে গেছে। মাহিম চোখ বুঝে ঘুম দেশে পাড়ি দেয়।

এদিকে হিমি অনেক কিছু ভাবছে। রেস্টুরেন্টে চারপাশে ক্যাপল আর ক্যাপল দেখেছে। আহিনও বুঝি সেদিন অফিসের জরুরি কাজের অজুহাত দেখিয়ে সেই মেয়েটির সাথে। হিমি আর কিছু ভাবতে পারছেনা।

বিছানা থেকে একটু উঠে মাহিমের দিকে তাকায়। অন্যপাশ হয়ে শুয়ে আছে। লোকটা আমাকে কতটা কেয়ার করছে। কতটা মূল্য দিচ্ছে। রেস্টুরেন্টে কি না ভেবে কতবার ক্ষমা চেয়েছে। সে কি আহিনের মত। না না তার চোখের মাঝে অন্য কাউকে খুঁজে পাই না আমি ছাড়া। সে কি আমাকে ভালোবাসবে তার মত করে? নাকি আমাকে আহবনের মত ছেড়ে চলে যাবে?

আর কিছু ভাবতে পারছেনা। মাথাটা প্রচন্ড ব্যথা করছে। কিছুতেই ঘুম আসছেনা হিমির। এক প্রকার জোর করে চোখ বন্ধ করে আল্লাহুর নাম মনে মনে বলতে বলতে ঘুমিয়ে যায় এক সময় হিমি।

No comments:

Post a Comment