জীবন সঙ্গী (পঞ্চম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Monday, December 23, 2019

জীবন সঙ্গী (পঞ্চম পর্ব)

জীবন সঙ্গী (পঞ্চম পর্ব)
লেখকঃ নাসির ইসলাম মাহিম।
.
এশার নামাজ পড়ে এসে মাহিম রুমে বসে অফিসের কাজ করতে বসে। বড় একটা প্রজেক্টের কাজ হাতে এসেছে। প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে প্রজেক্টের জন্য। গত সপ্তাহের কাজ জমা পড়ে আছে। সব মিলিয়ে একটা বড়সড় কাজ জমা হয়েছে মাহিমের কাঁধে।

মিটিং শেষে বস মাহিমকে ডেকে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে দেয়। সাথে জমা পড়া কিছু কাজও সাথে দিয়ে দেয়। এই প্রজেক্টের সব কাজ মাহিমের হাতে তুলে দেয়। মাহিম কাজে বেশ পারদর্শী। সব কাজ গুরুত্বসহকারে সব করে, কাজ সাকসেসফুল করে। এতে বস রফিক চৌধুরী খুব পছন্দ, ভালোবাসে। সেইজন্য যখন ছুটি চায় তখনি ছুটি দিয়ে দেয়। কোন বিন্দু পরিমাণ দ্বিধাবোধ করে না।

কিচেনে গিয়ে চা করে আনে মাহিম। অল্প কিছু ফ্লাক্সের ভেতর রেখে দেয়। যখন ঘুম পাবে তখন না হয় একটু একটু করে খেয়ে নিবে। চা খেলে কিছুটা ঘুমের থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আরেক কাপ ঢেলে নেয় চায়ের কাপে। চা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এক চুমুক দিয়ে আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পর চা এক চুমুক, এক চুমুক করে চা টা শেষ করে।
কিছুক্ষণ কাজ করার পর মাহিম ভাবলো হিমিকে একটা কল করা যাক। এতে মায়ের শরীর সম্পর্কে জানা যাবে। সাথে হিমিরও।

ল্যাপটপ রেখে ফোনটা হাতে নেয়। হিমির নাম্বারটা ডায়েল করে। কবার রিং বাজতেই ফোনটা রিসিভ হয়।
---হ্যালো।
---হ্যাঁ বলুন।
---কি করছো?
কিছুনা, ঘুমাবো। আপনি কি করছেন?
এই তো তোমার কথা ভাবতেছি।
আমাকে পাম দেওয়া হচ্ছে বুঝি।
বারে পাম কেনো দেব তোমাকে। স্ত্রীকে কেউ কি পাম দেয় হুম।
হুম দেয়।
তাতো আগে জানতাম না।
আগে কেমন করে জানবেন। এর আগে তো কখনও বিয়ে করেন নি তো তাই।
---ওহ্! তুমি বুঝি বিয়ে করেছ?
.
কথাটা বলেই মাহিম জিহ্বায় কামড় দেয়। কি থেকে কি বললো। হিমির স্মৃতির পাতা বাতাসের মত নাড়িয়ে দিলো। মনটা খারাপ হয়ে গেলো মাহিমের কথাটা শুনে। স্মৃতির পাতা দুচোখের পাতায় এসে ভিড় জমিয়েছে। মাহিম বুঝতে পারে কথাটা বলা ঠিক হইনি। হঠাৎ করে মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেছে। মাহিম নিচু স্বরে বললো,
---আসলে আমি,
.
কথাটা শেষ করতে না দিয়ে হিমি বললো,
ঠিক আছে সমস্যা নেই। খেয়েছেন?
.
মাহিম বুঝতে পারে হিমির কন্ঠ টা ধরে গেছে। কন্ঠটা খুব গম্ভীর হয়ে এসেছে।
আসলে না মানে, না মানে,
ওহ্ বুঝেছি। এখনও খান নি তাই না। এখন খেয়ে নিন কেমন।
খেতে ইচ্ছে করছে না।
কেনো? শরীর খারাপ হয়ে পড়েছে? নাকি জ্বর এসেছে? ঔষুধ খেয়েছেন?
আরে বাবা এতো ব্যস্ত হয়ে পড় না তো। আমি ঠিক আছি। তুমি খেয়েছো?
আলহামদুলিল্লাহ খেয়েছি। আপনি খেয়ে নিন যান।
---আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।
---আপনি খাবেন কিনা বলেন?
.
কপট রাগ দেখিয়ে হিমি বললো। মাহিম বুঝতে পারে আর উপায় নেই না খেয়ে থাকার। এতটা কাজের পেসার তা বলা বাহুল্য। সারা সপ্তাহের কাজ জমা পড়েছে। তাই আজকে কাজ করে ঘুমাবে। খেতে ইচ্ছে করছে না। ফ্রিজে কিছু খাবার রাখা আছে। গরম করে খেয়ে নিতে হবে শুধু।

 মাহিমের নিরবতা দেখে হিমি আবার বললো,
---আপনি তাহলে খাবেন না?
---আচ্ছা বাবা যাচ্ছি।
খেয়ে নিন আর রাত না জেগে সকালে অফিসের কাজ করবেন। কেমন।
আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি ঘুমিয়ে পড়। গুড নাইট।
.
ফোন রেখে মাহিম ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে,  কিচেনের দিকে যায়। গরম করে খেতে হবে। একগাদা কাজ বাকি এখনও। এদিকে হিমি ফোনটা রেখে চোখের অশ্রু মুছে নিল শাড়ির আঁচল দিয়ে। হিমি গালের নিচে হাত রেখে জোর সরো হয়ে ভাবনাতে ডুবে যায়।

সেদিন ছিল ঝমঝম বৃষ্টি। আকাশে খনে খনে বজ্র হচ্ছে। সেই কখন থেকে হিমি বসে আছে রুমে। আহিন অফিস ছুটির আগে ফোন দিয়ে বলে,"আমি অফিস থেকে ফেরার পথে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার নিয়ে আসবো কেমন।
হুম। তাহলে আর রান্না চড়ালাম না চুলায়।
ঠিক আছে। তুমি কালো শাড়ি পরে, সাদা ব্লাউজ পড়িও। আর আমার পছন্দের পারফিউম নিও।
স্যার! আপনার আজকে কি মতলব হুম।
কোন মতলব নেই। বৃষ্টির ভেতর, অল্প আলো, কালো আধারে তোমাকে দেখতে খুব ভালো লাগে তাই।
ঠিক আছে স্যার। আপনি একটু তাড়াতাড়ি আসবেন কেমন।
.
কথা বলে ফোন রাখে। তখন থেকে সেজেগুজে বসে আছে হিমি। রাত প্রায় অনেক হয়েছে। কোন আসার নামগন্ধ নেই আহিনের। হিমি বার বার ফোন দিলে, আহিন বারবার একি কথা বলে,"বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এর ভেতর বের হতে পারছিনা। কখন যে বৃষ্টি থামে তার ঠিক নেই। তুমি ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খেয়ে নিও। আর ফোনে চার্জ নেই। আর ফোন দিওনা। আমি বৃষ্টি থামলে চলে আসবো। কেমন।
.
হিমি কোন শব্দ করেনি। ফোন কেটে দেয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে গাল বেড়িয়ে। মনের মাঝে কষ্ট হচ্ছে। প্রিয় মানুষটি এরকম কেনো? আগে হাজার ঝড় হলে, তবুও আমাকে দেখতে আসতো। আর আজ সাজতে বললো, সাজগোছ করলাম। অপেক্ষা করতে বললো, অপেক্ষা করলাম। কিন্তু শেষমেশ এই কথা বললো। চোখের পানি আর বাহিরের বৃষ্টির পানি এক হয়ে যাচ্ছে।

রাত ১১ নাগাদ আহিন বাড়িতে ফিরে। দেখে হিমি এখনও দাঁড়িয়ে আছে জানালা ঘেঁষে। বাহিরের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখছে। আহিন গিয়ে হিমিকে জড়িয়ে ধরাতে হিমি ঘাড় বাকিয়ে দেখে আহিন। যেটা ভেবেছিল সেটাই হচ্ছে। আহিন হিমিকে ঘুড়িয়ে নেয়। দেখে চোখে পানি। আহিন দুহাত দিয়ে পানি মুছতে মুছতে বললো,
---স্যরি মাই বেবি। আসলে আমি,
.
আহিনকে থামিয়ে হিমি বললো,
---ফ্রেশ হয়ে নাও।
.
হিমিকে ছেড়ে শার্ট খুলে লুঙ্গী নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। হিমি শার্টটা হাতে নিয়ে রেখে দিতে লেডিস পারফিউমের গন্ধ পায়। নাকে নিয়ে ভালো করে শুকে নেয়। হ্যাঁ এটা তো লেডিস পারফিউম। তাহলে আহিন এতক্ষণ। হিমি ভাবতে পারছেনা। তখন আহিন ওয়াশরুমের ভেতর থেকে বের হতে বলে,
কি হলো, শার্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? ওখানে খাবার আছে। তুমি খেয়ে নাও। আমি খেয়ে এসেছি।
.
হিমি ভ্রু কুঁচকে তাকায় আহিনের দিকে। তাহলে তার ধারণা ঠিক।
---এতক্ষণ তুমি তোমার কলিগের সাথে প্রেম ভালবাসার ডুবে ছিলে?
.
আহিন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় হিমির কথাটা শুনে। তখন মুখে হাসি মিলিয়ে ধরে বলে,
তুমি না দুর, আমাকে কি সন্দেহ করছো?
সন্দেহ করার কি আছে। যেটা বলেছি সেটার উত্তর দাও।
.
আহিন হিমিকে জড়িয়ে ধরে বলে,
তুমি ছাড়া আমি কাউকে ভালোবাসি না। তুমি সেটা জানো না।
কিন্তু, তোমার শার্টে এই লেডিস পারফিউমের গন্ধ কেনো?
আরে তুমি না। অফিস থেকে বের হয়ে গাড়ি পাচ্ছিলাম না। তখন বাস স্টেশনে অনেক ভিড় ছিল। সেখানে মেয়ে ছিল অনেক। বোঝই তো। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ এক মেয়ে দৌড়ে আসতে পা পিছলে আমার উপর পড়ে। আমি তো অবাক হোলাম। নিজেকে সামলে নিলাম। হয়তো ওই মেয়েটার পারফিউম লেগে গেছে।
.
এক এক করে আহিন বললো। হিমি শুনে কিছু প্রশ্ন করেনি। হয়তো আহিন ঠিক বলেছে। হিমি আহিনের থেকে ছেড়ে খাবার নিয়ে ফ্রিজে রাখে। তখন আহিন মনে মনে বলে উঠলো, "আর একটু হলে ধরা খেতাম।

রাতে হিমি না খেয়ে শুয়ে পড়ে। আহিন জিজ্ঞেস করলে বলে, খেয়েছে। তাই আর আহিন আর জিজ্ঞেস করেনি। আহিন ঘুমিয়ে যায়। হিমির ঘুম নেই। কত কি না ভেবেছে। আহিন তো এমন না। একটু হালকা ঘুমের ভান হতেই ম্যাসেজের রিংটোনে হিমির ঘুম ভেঙে যায়। ম্যাসেজ দেখে অবাক হয়। ম্যাসেজ লিখেছে, " হোয়াটসঅ্যাপ কিছু ছবি দিয়েছি আপু। দেখেন আহিন ভাইয়ার চরিত্র।

হিমি তরি ঘুরি করে হোয়াটসঅ্যাপ অন করতেই চোখ বড় বড় হয়ে যায়। এসব কি দেখছে। আহিন আর একটা মেয়ে জড়িয়ে ধরে আছে। একটাতে। হিমি আহিনের দিকে তাকায়। আহিন গভীর ঘুমে আছন্ন। তার সুন্দর সুন্দর কথায় সব ভুলে গিয়েছিল। সে কথাটা বানিয়ে বলেছে। তাহলে কি আহিন। আর কিছু ভাবতে পারেনি। ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে বসে পড়ে। আহিন পরকীয় প্রেমে। আহিন তাহলে আমাকে ঠকাচ্ছে। মিষ্টি মিষ্টি কথায় আমাকে বুলিয়ে, তারা পরকীয় প্রেমে মগ্ন। আর কিছু ভাবতে পারেনা হিমি।

কতক্ষণ যে শাওয়ারের নিচে ছিল হিমির অজানা। ফজরের আযান শুনে বের হয়। তারপর ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নেয়। সকালে আহিনকে ছবি গুলো দেখাতে বড়সড় ঝগড়া বাধলে। শেষে হিমিকে মারধর করে না খেয়ে অফিসে বের হয়। তখন হিমি ফ্লোরে বসে হাউমাউ করে কাঁধে।
বৌমা। তুমি কাঁদতেছো কেনো? কিছু হয়েছে তোমার? মা-বাবাকে খুব মনে পড়ছে বুঝি।
.
হিমি তার শ্বাশুড়ি মা মাহমুদা বেগমের ডাকে স্মৃতি থেকে বাস্তবে ফিরে। দেখে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। শ্বাশুড়ী মাকে জড়িয়ে ধরে হিমি।
আরে পাগলি কাঁদছিস কেনো? কি হয়েছে বল আমাকে? আমি না তোর মা। বল আমায়।
---কিছুনা মা।
.
মাহমুদা বেগম বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। যা হিমি বলতে অনিচ্ছুক।
---আমাকে বলবি না তাই তো।
.
হিমি মাথা নেড়ে "না" বলে।
তাহলে বল মা। কি হয়েছে তোর? এমন কাঁদছিস কেনো? আমাকে বল এতে মনটা হালকা হবে।
---আমি বাড়ি যাবো মা।
.
মাহমুদা বেগম হাসে। তার পর বলে,
দুর পাগলি। এতে কাঁদার কি আছে। আমি মাহিমকে বলবো, কালকেউ যেন তোকে বাড়িতে রেখে আসে। কয়েক দিন থেকে আসিস কেমন।
.
হিমি মাথা নাড়ে। মাহমুদা বেগম জড়িয়ে ধরে থাকে। হিমি মাহমুদা বেগমের বুকের মাঝে মায়ের স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা পাচ্ছে। অনেকেই বলে শ্বাশুড়িরা খুব খারাপ হয়। কিন্তু, ওনাকে দেখে একবারও অনাকে খারাপ মনে হইনি। বেশ সুন্দর করে কথা বলে। এ কয়দিনে কখনও কষ্ট, দুঃখ, দুর ব্যবহার করেনি। মায়ের মত, মেয়েকে যেমন পরম আদর ভালোবাসে ঠিক সেরকম তিনিও আমাকে ভালোবেসে। কখনও আমাকে কুকথা বলেনি। এবংকি, আমার প্রথম বিয়ে নিয়ে কোন কথা বলেনি। কখনও সে প্রসঙ্গে কথাও তলেনি। কখনও সেরকম কথা বাঁকিয়ে বলেনি। এসেছি মাত্র কদিন হলো। এর মাঝে কতটা আপন করে রেখেছে আমাকে।

রাত প্রায় অনেক গভীর হয়েছে। ১২ টা ছোঁ ছোঁ। চোখে ঘুম নেই হিমির। লোকটার কথা বেশ মনে পড়ছে। সে কি সোফাতে ঘুমিয়ে গেছে? নাকি খাটে? কিছু প্রশ্ন মাথায় এসে ভিড় জমিয়েছে। একবার কি ফোন দিয়ে জানবো? না থাক, এত রাতে ফোন দিয়ে ঘুমের ডিস্টার্ব না করাই ভালো। এমনিতে খুব ভোরে উঠে। কখনও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে উঠে রাত ৩ টার দিক। এ সময় ফোন দেওয়া মোটেই ঠিক হবেনা। মনে মনে একাই বিরবির করে বলে যাচ্ছে হিমি। হিমির মনের কথাটা বোধহয় শ্বাশুড়ি বুঝতে পেরে বলে উঠলো,
---বরকে ছাড়া বুঝি ঘুম আসছেনা মা?
.
হিমি শ্বাশুড়ির কথাটা শুনে কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায়। মনে মনে বলে উঠে, "উনি কেমন করে বুঝতে পারলো আমি ঘুমাইনি? বেশ অদ্ভুত তো!
---মা আপনি ঘুমান নি এখনও?
---সন্তানের চোখে ঘুম না আসলে, মায়েরা কি ঘুমাতে পারে বল।
.
হিমি মাহমুদা বেগমকে জড়িয়ে ধরে। মাহমুদা বেগম মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
---পাগলি কথাকার।
.
হিমি পরম ভালোবাসা পেয়ে কোন কথা বলছেনা। নিশ্চুপ হয়ে জড়িয়ে ধরে আছে। মাহমুদা বেগম বলে উঠলো,
জানো মা। মাহিম এখনও ঘুমাই নি। এখনও রাত জেগে অফিসের কাজ করছে।
---আপনি জানেন কিভাবে মা?
আমি ওকে ছোট করে বড় করেছি। এই সামান্য কিছু জানবো না। আর শোন, মায়েরা সন্তানের সব কিছু বুঝতে পারে। কখন দুঃখ পায়, কখন কষ্ট হচ্ছে, আর কখন সুখে রয়েছে। তুইও মা হলে বুঝতে পারবি একদিন দেখিস।
.
কথাটা বলে কপালে চুমু একে দেয় মাহমুদা বেগম। হিমির চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় ঝর্ণার মত পানি পড়তে শুরু করে। ডিমলাইটের আলোতে ঠিক দেখা না গেলেও মাহমুদা বেগম ঠিক দেখতে পায়। হাত দিয়ে মুছে দেয় চোখের পানি।
---আরে পাগলি! কাঁদছিস কেনো হুম।
---আমি কি মা হতে পারবো?
কেনো পারবিনা। "ইন-শা আল্লাহ " অবশ্যই পারবি। আমি দোয়া করবো আল্লাহর কাছে। তোর কোল জুড়ে একটা সন্তান দেন যেন।
.
আবারও জড়িয়ে ধরে হিমি মাহমুদা বেগমকে। মাহমুদা বেগম চোখ মুছে ফেলে। হিমি বোঝার আগেই।
---আপনি খুব স্বার্থপর মা।
.
মাহমুদা বেগম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান হিমির কথা শুনে।
---কেনো মা? আমি কি করেছি?
চোখের পানি মুছে ফেললেন আমি দেখার আগে।
.
মাহমুদা বেগম হাসবে, না কাঁদবে কিছুই বুঝতে পারছেনা।
এই নি আমার ছেলের সাথে কথা বল। খুব করে বকা দিবি। এত রাত উপব্দি জেগে জেগে কাজ করার জন্য।
.
হিমির দিকে ফোনটা এগিয়ে দেয় মাহমুদা বেগম। হিমি চটপট ফোন হাতে নেয়। কল দিতে গিয়ে দেয়নি।
যদি উনি বোকা দেয় আমাকে। আর হয়তো ঘুমিয়ে গেছে উনি।
শোন মা, মাহিম খুব কাজে মনযোগি। খুব ট্যালেন্ট। খুব দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে। তাই এখনও রাত জেগে কাজ করছে।
---যদি কাজের ডিস্টার্ব হয়।
তোকে একটা কথা বলি। তোর কথা কতবার জিজ্ঞেস করেছে জানিস? জানিস না, অনেকবার ফোন করে তোর খবর নিয়েছে আমার থেকে। যাতে তোর কোন কষ্ট হচ্ছে কিনা। তাহলে বোঝ, সে তোকে কতটা ভালোবাসে। কতটা চোখে চোখে রাখে।
.
হিমি আর এক মুহুর্ত দেরি না করে ফোন দেয় মাহিমকে। একটু রিং হতেই রিসিভ হয়।
---হ্যালো,
---তুমি এখনও ঘুমাওনি?
---আপনি কি করছেন?
---আসলে কাজ করতে ছিলাম।
---কত বাজে এখন?
---এই তো ১২:৬।
---আপনি কি পাগল নাকি?
---কেনো? আমাকে কি পাগল মনে হয়।
---হ্যাঁ মনে হয়। এতটা শরীরের উপর পেসার দিয়ে দ্বায়িত্ববান হওয়া দরকার নেই।
---আর একটু,
---বলছি না ঘুমাতে।
---পি,
আর একটা কথা যেন না বলতে হয়। এখনি ল্যাপটপ বন্ধ করে ঘুমাবেন। আর যদি না ঘুমান তাহলে আমিও।
ঠিক আছে। এই ল্যাপটপ বন্ধ করেছি। ওয়াশরুম থেকে এসে জাষ্ট ঘুম। ঠিক আছে।
ধন্যবাদ। গুড নাইট। আল্লাহ হাফেজ।
গুড নাইট ফর ইউ ম্যাম। আল্লাহ হাফেজ।
.
ফোন কেটে দেয়। মাহিম ফোন রেখে ওয়াশরুমে চলে যায়। এদিকে মাহমুদা বেগম আর হিমি হেসে কুটিকুটি হচ্ছে।
---তুই পারিসও বটে।
---হ্যাঁ মা।
আমি জানি তুই আমার ছেলেকে কষ্ট দিবিনা। আমি এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। আর অনেক অনেক সুখে রাখবি।
.
 থুতনি ধরে কথাটা বলে মাহমুদা বেগম। হিমি লজ্জা পেয়ে যায়।
আমার সোনা মা দেখি লজ্জা পাচ্ছে।
---দোয়া করবেন মা।
---আমার দোয়া সব সময় তোদের সাথে আছে। এবার আমরা ঘুমাই কেমন।
---হ্যাঁ মা।
.
হিমি মাহমুদা বেগমকে জড়িয়ে ধরে ঘুমায়। হিমি মনে মনে ভাবে,"এমন শ্বাশুড়ি কি সবার কপালে হয়। হয়তো ভাগ্য গুণে পায় সবাই। কথায় আছে না, "দুঃখের পর সুখ আসবে। হ্যাঁ! আল্লাহ তায়ালা আমাকে দুঃখের পর সুখের ছুঁয়া দিচ্ছে একটু একটু করে।

No comments:

Post a Comment