পাগলী (শেষ পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, September 28, 2019

পাগলী (শেষ পর্ব)

পাগলী (শেষ পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
রাতে খেয়ে এসে শুয়ে পড়তে মনে হলো রাকা কি খেয়েছে। যে রাগ রে বাবা! মাকে বলতে সাহস হচ্ছে না। কি যে করি বুঝতে পারছি না । দ্বিধাদ্বন্দ্বে পরে গেলাম। কি করবো বুঝতে পারছি না। সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ফেলে মার রুমে চলে গেলাম।

আমাকে দেখে মা বললো,
কিরে কিছু হয়েছে?
না মা।
শরীর খারাপ?
না মা।
কিছু বলবি?
হুম।
তো দাঁড়িয়ে কেন। বস আমার কাছে।
আব্বু কোথায়?
ফোনে কথা বলছে বারান্দায়। তা কি বলবি বল।
রাকা কি খেয়েছে রাতে?
হ্যাঁ! কেনো?
না এটাই বলার জন্য। আর কিছু না।
কিছু হয়েছে? ঝগড়াঝাটি হয়েছে বুঝি।
না মানে...
বুঝেছি। আমি রাকাকে খেতে বললে রাকা খেতে অনিহা করলে আমি বুঝতে পারি কিছু হয়েছে। তাই বুঝিয়ে সুঝিয়ে খাইয়ে দিছি।
ধন্যবাদ। তুমি না আসলেই খুব খুব ভালো মা। সব কিছু সলিউশন করে দাও সব।
যা এখন ঘুমা নিশ্চিতে।
.
আমি চলে আসি মার রুম থেকে। এখন খুব খুব ভালো লাগছে। নিশ্চিতে ঘুমাতে পারি। একবার মনে হলো রাকার রুম থেকে ঘুরে আসি। না থাক যাবো না এখন। সকালে স্যরি বলে দেবনি। তাই নিশ্চিতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে গেলাম। টেবিলে দেখি আব্বু আম্মু বসে আছে।
মা রাকা কোথায়?
ঘুম থেকে উঠেনি।
-ও,
.
আমি আর কিছু বললাম না। চুপচাপ খেয়ে রুমে এসে রেডি হচ্ছি কলেজে যাবার জন্য। ইউনিফর্ম পড়ে বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে চলে গেলাম।

কলেজ থেকে বাসায় চলে আসি। ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে  রাকার রুমে যায়। রুমে গিয়ে দেখি রাকা নেই। সেখান থেকে মা-র রুমে গেলাম। মা দেখি বারান্দায় বসে আছে। আমি গিয়ে মা-র পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমাকে দেখে মা বলে উঠলো,
কি রে কলেজ থেকে কখন আসলি?
এই তো এখন।
এত তাড়াতাড়ি আসলি যে?
লাষ্ট ক্লাস হইনি।
ও। একটু বিশ্রাম নিয়ে নি!
মা রাকা কোথায়? বাসায় যে দেখছি না।
ও। ওর আন্টির বাসায় গেছে।
-ও..
.
আমি আর কিছু না বলে চলে আসলাম। কেমন জানি খুব খারাপ লাগছে রাকার জন্য। যে রাগ, কি যে করে বসে তার ঠিক নেই। অনেকটা ক্লান্ত হওয়ার বিছানায় শুতে না শুতে ঘুম চলে আসে চোখে।

বিকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রাকাকে ফোন দিলাম। কিন্তু, ফোনটা বন্ধ পেলাম। বেশ কবার ট্রাই করি কিন্তু, ফোনটা বরাবর বন্ধ পেলাম। আমি আর ট্রাই না করে ঘুরতে বেড়ায়। বিকালে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বাসায় ফিরি।

রাত্রি বেলা খাবার খেয়ে এসে শুয়ে আছি। শুধু বার বার রাকার কথায় মনে পড়ছে। হঠাৎ মা এসে বললো,
তুই রাকাকে কি বলেছিস মেয়েটা নাকি সারাদিন কান্না করেই যাচ্ছে।
কি বলছো তুমি! কে বললো তোমাকে?
কে আবার রাকার আন্টি।
.
এমন সময় আন্টির ফোন।
মা আন্টি ফোন দিয়েছে।
রিসিভ কর। দেখ আন্টি কি বলে।
.
আমি ফোনটা রিসিভ করতে আন্টি বলে,
বাবা তানিম তুমি কোথায় আছো?
কেনো আন্টি? কিছু হয়েছে রাকার?
না কিছুই হয়নি। একটু আমাদের বাসায় আসবি ওতো কিছুই খাচ্ছে না।
— আচ্ছা আন্টি আমি আসছি এখনি।
.
ফোন রেখে আসতে মা বলে উঠলো,
কোথায় যাস এত রাতে?
-আন্টির বাসায়।
.
মা-কে বলে রওনা দিলাম। কেমন জানি বেশি খারাপ লাগছে। এত পাগলী কেনো মেয়েটা। কি না কি নিয়ে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

তারপর আন্টিদের বাসায় গেলাম সারাদিন মনে হয় অনেক কান্না করছে এখনো চোখ ফুলে আছে। রাকা আমাকে দেখার পর…

তুই কেনো আসলি?
আমি আসতে পারিনা!
না পারিস না!
ও আমি ভাবছিলাম পারি আচ্ছা আমি যাই তাহলে!
কই যাস আমাকে নিবিনা (হাত ধরে)।
কিন্তু তুই যে বললি যেতে!
আচ্ছা আমি কি দেখতে অনেক খারাপ অনেক পঁচা?
কই নাতো?
আচ্ছা আমাকে কি ভালোবাসা যায়না।
কেনো ভালোবাসা যাবেনা। 
সত্যি আমি তোমায় অনেক ভালোবাসবো (কান্না জড়িত কন্ঠে)
আরে পাগলী কান্দিস ক্যানো আমিতো আছি
তাহলে জড়িয়ে ধর!
লজ্জা করে।
ধরতেও হবেনা। যা তুই। (অভিমানী সুরে)
-সত্যি যাবো।
তুই যেয়ে দেখ। পা ভেঙ্গে হতে ধরিয়ে দেব।
এমন ডাকাত মেয়ে বাবার জন্মেও দেখি নি।
আমি স্যরি।
আচ্ছা বাবা ঠিক আছে।
আর কক্ষনও ঐ মেয়ে গুলোর সাথে মিশবে না। তুমি জানো আমি ভাবছিলাম হয়তো তোমায় হারিয়ে ফেলছি। আর বাবু আমি মারছি যে তুমি ব্যাথা পাইছো আমি স্যরি তো!

আমি কিছুই বললাম না। কেনো জানি ওর বোকা বোকা কথা গুলো আজ খুব ভালো লাগছে।

আচ্ছা সারাদিনতো কিছুই খাও নাই এখন খাও।
তুমি খাইয়ে দিবে তো?
হায়রে পাগলী আমারেও এখনো আম্মু খাইয়ে দেয় আর আমি!
থাক হয়তো এটাই ভালোবাসা।
___সমাপ্ত!!!

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here