পাগলী (দ্বিতীয় পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, September 26, 2019

পাগলী (দ্বিতীয় পর্ব)

পাগলী (দ্বিতীয় পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
ফ্রেশ হয়ে খেতে বসেছি এমন হময় মা বলে উঠে,
-তানিম।
-হ্যা মা বলো।
-রাকাকে কলেজে সাথে করে নিয়ে যাস। বাসাতে একা একা বসে থাকবে, তার চেয়ে বরং তোর সাথে কলেজে গেলে ভালো হবে। কি বলিস রাকা।
-হুউম। (মাথা ঝাঁকাল)
.
আমি মার দিকে একবার তাকিয়ে রাকার দিকে তাকালাম। মিষ্টি মিষ্টি হাসছে। মনের ভেতর আগুন জ্বলে উঠলো। এই ডাইনিকে নিয়ে কলেজে ইম্পসিবল।
দেখ মা! আমি কাউকে নিয়ে কলেজে যেতে পারবোনা।
কেনো? রাকাকে সাথে নিয়ে গেলে কি হবে?
অনেক কিছুই হবে মা। তুমি সেটা জানো না। (বিরবির করে)
কিছু বললি?
না মা। তবে আমি রাকাকে নিয়ে কলেজে যেতে পারবোনা। অনেক ঝামেলা হবে।
অনেক ঝামেলা মানে?
ও তুমি বুঝবেনা মা।
.
রাকা বলে,
-খালাম্মা! থাক আমি যাব না। এত জোরাজোরি করতে হবেনা। যেহেতু তানিম ভাইয়া নিতে চাচ্ছে না। তাই যাব না।
-তুই ঠিক বলেছিস রাকা।
.
মা আমাকে ধমকের গলায় বলল,
আমি চাই রাকাকে নিয়ে কলেজে যাবি। এ নিয়ে কোন না শুনতে চাই না।
.
আমি একবার মা'র দিকে তাকালাম। চোখটা বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু না বলে খেতে লাগলাম। রাকার দিকে আড় চোখে তাকাতে দেখি হাসছে। মেজাজটা গরম হয়ে গেলো। পা দিয়ে রাকার পায়ে পারা দিয়ে উঠে আসলাম। রাকা উুহ করে উঠতে মা বললো,
কিরে কি হয়েছে? ওমন করলি কেনো?
.
রাকা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
-কিছুনা খালাম্মা।
.
আমি আর এক সেকেন্ড সময় দেরি না করে রুমে এলাম।

কলেজে যাবার জন্য কলেজের ইউনিফর্ম পড়ে বই ব্যাগে গুচাচ্ছি। এমন সময় রাকা রুমে এসেই দরজা বন্ধ করে দিয়েই আমার কাছে চলে আসে। আমার ব্যাগ গুছানো শেষ করে বললাম,
আমি রেডি। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নি। বেশি সময় নেই কিন্তু।
.
রাকা কিছু না বলে আমার শার্টের কলার ধরে একদম আমার কাছে চলে আসে। চোখে চোখ রেখে বলে,
আমার পায়ে পারা দিছিস কেনো?
.
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম এমন কান্ড দেখে। রাকা হঠাৎ এমন করছে কেনো?
আমার লেট হয়ে যাচ্ছে। ছেড়ে দে আমায়।
না আগে বল, আমাকে পারা দিলি কেনো?
আমাকে ছেড়ে দে। আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্লিজ ছেড়ে দে।
আগে বল।
তুই আমাকে আম্মুকে দিয়ে বকা খাওয়ার জন্য পানিশমেন্ট।
আমাকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে তাই না। এখন আমি পানিশমেন্ট দেব তোকে।
.
কথাটা বলে আমাকে নিয়ে বিছানায় পড়ে যায়। রাকার উপরে আমি পরে যায়। রাকা আমার কলার ভালো করে চেপে ধরে। একদম কাছাকাছি। যেখানে দুজনের দু'জনার নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যায়। আমি শুধু তাকিয়ে আছি। মেয়ে টা করে কি।
তানিম। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখ, তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।
.
আমি কিছুই বলছিনা। শুধু রাকার অদ্ভুত পাগলামি দেখতেছি। কতরকম পাগলামি জানে তার শেষ দেখতে চাই।
কি হলো বললে না। আমার চোখে তুমি ছাড়া অন্য কেউ আছে কি না?
.
আমি দুষ্টুমি করার ছলে বললাম,
-হ্যাঁ। আমি ছাড়া ওই চোখে আর একজন আছে।
.
কথাটা বলতে রাকা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় আমাকে। আমি মুচকি হেসে বললাম,
হিহিহিহি যা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নি। কলেজের লেট হচ্ছে।
-না যাব না তোর সাথে।
.
রাকা অভিমানি সুরে বললো কথাটা। আমি বিছানা ছেড়ে রাকাকে একটানে বিছানা থেকে উঠেয়ে ফেলি।
তুই যদি এখন না যাস। তাহলে সকালের মত,
যা দুষ্ট। বিয়ের পর যত খুশি দিতে পার ।
.
কথাটা বলে রুম থেকে এক দৌড়ে রুমে চলে যায়।

ফ্রেশ হয়ে বের হলে আমি আর রাকা কলেজে চলে যাই। .
কলেজ গেটে ডুকার পর কিছু মেয়ে আমাকে এসে বল্লো ভাইয়া আপনাকে অন্নেক সুন্দর লাগতাছে..!
তাই বুঝি!
ওহ! ভাইয়া আপনি তো অন্নেক সুইট! একদম।অসাম। কিউটের ডিব্বা।
পকেট থেকে মোবাইলটা বাহির কইরা বারবার মুখ দেখতে ছি। ওওওও আল্লাহ আমি এতো কিউট ক্যারে!
ভাইয়া একটা গান বলবেন প্লিজ প্লিজ!
তোমরা যেহেতু বলছো না বলে কি আর পারি…
-থ্যাঙ্কিউ।
-তাহলে শুরু করি।
-হ্যাঁ, হ্যাঁ শুরু করেন ভাইয়া।
-তাহলে শুরু করলাম,,
আ.....আ....আ..
 লা……লা…..লা….
লু………লু…..লু….
লি……….লি………লি…
লে টাক্লু…………
আ……আ……আ…..

হায় হায় কি কোকিলের মতো কন্ঠ আমার। এখনো মনে আছে একবার স্কুল লাইফে ক্লাসে গান গাইছিলাম আর আমার গান এতো সুন্দর হইছে যে উপস্থিত সবাই সবার হাতে যা ছিল তাই আমার দিকে ছুঁড়ে মেরেছিল।

সবাই দেখি কানে হাতদিয়ে রাখছে। মনেয় ভালো হইতাছে। আবার দিলাম টান…
আ…….আ………আ……..
লালালা…লোলোলো….লুলুলুউউউ…

ভাইয়া থামেন থামেন!
আর একটু আছে তো। গাই....
.
এমন সময় রাকার আগমন। কোথায় যেন গিয়েছিল একটু আগে। হয়তো ফোনে কথা বলার জন্য। রাকা বললো,
এই এই তোমরা যাও আর এখানে কি হচ্ছে হ্যা।
এই তুমি ওদের তাড়িয়ে দিলে কেন?
তাড়িয়ে না। যেতে বলেছি।
ওই একি হলো।
একি-ই হলো না। আমি বাসায় যাব।
বাসায় যাবে মানে! এখনও এক ক্লাস আছে। লেজার বেল এটা।
দেখ তুমি যদি আমাকে বাসায় এক্ষুনি না নিয়ে যাও না। আমি একাই যাবো।
তুমি কি বেশি বই তুই যাবি কি-না বল? (রেগেমেগে)
না মানে...
তার মানে তুই যাবি না বুঝেছি। থাক তুই তোর ক্লাস নিয়ে। আমি চললাম..
.
কথাটা বলেই হাঁটা শুরু দেয় রাকা। আমি কিছুই না ভেবে রাকার পিছু পিছু হাঁটা শুরু করি। আমি পিছনে আসছি বুঝে রাগি লুক নিয়ে পিছনে তাকায়। আমি কিছুই না বলে পিছনে পিছনে হাঁটা দিলাম।
.
রিকশায় উঠে বসে রাগি লুক নিয়ে বললো,
তুই আসলি কেনো? নাম রিকশা থেকে।
আরে তুমি দেখছি ছোট্ট ছেলেদের মত রেগেমেগে আছ।
তোর সাথে আমি যাব না। ব্যাস।
-স্যরি।
.
রাকা আর কিছু না বলে রিকশাওয়া মামাকে বললো যেতে। আমি নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি। কিছু বলার সাধ্য নেই আমার। বললে কিছু একটা অঘটন ঘটাতে পারে। তাই বাধ্য ছেলেদের মত আমিও চুপ মেরে বসে আছি।

রিকশা থেকে ভাড়া না দিয়ে সোজা বাসায় ঢুকে যায়। বুঝলাম মহারাণী খুব রাগ করেছে। ভাড়া দিয়ে আমার রুমে না গিয়ে রাকার রুমে চলে গেলাম।

রুমে গিয়ে দেখি গাল ফুলিয়ে বসে আছে। আমি গিয়ে ওর পাশে বসে পড়লাম। রাকা তবুও কিছু বললো না। কেমন জানি আমার খুব খারাপ লাগলো। তাই মনটা ভালো করার জন্য, মুড নিয়ে বললাম,
দিলেতো তখন রোমান্টিক মোডটি নষ্ট করে।
ঠাসসসসসসসসস! মেয়ে দেখলেই রোমান্টিকতা আসে।
তুই আমাকে মারলি??
—স্যরি..! আসলে আমি ইচ্ছে করে তোকে মারতে চাই নি। স্যরি...
.
রাগে আমার মাথা চান্দী ধরে গেল। মন ভালো করতে এসে বাঁশ খেলাম। রাগে আমার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে। রাকা তখন বলে উঠে,
আসলে সত্যি আমি চড় দিতে চাই নি বিশ্বাস কর। সত্যি ইচ্ছে করে দেই নি। হঠাৎ করে এটা হয়ে গেছে।
নিজেকে কি মনে করিস হ্যাঁ? মহারাণী ভিক্টোরিয়া! যত্তসব আজাইরা পেইন..
.
এই বলে রেগে চলে আসলাম। রাকা এখনো সেখানেই দাড়িয়ে আছে হয়তো আমার চলে আসা দেখছে।
আসলে ওকে সাথে এভাবে খারাপ ব্যাবহার করাটা ঠিক হয় নি। এখন নিজের কাছেও খারাপ লাগছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here