বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (দশম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 19, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (দশম পর্ব)

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (দশম পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
রুমের জানালা টা খোলা।
নিশাত খাটের এক পাশে বসে আছে।
জানালার ফাঁক দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের
আলো সোজা তার চেহারায় এসে পড়েছে।
জানালার পাশে এক কাপ কফি। নিশাত আনমনে কিছু একটা ভাবছে! আজ ঘুম নেই চোখে।
গত দুই দিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটছে। ঘুমাতে পারছে না ঠিক মত। শরীরে হালকা হালকা জ্বর এসেছে।
মাজেদা বেগম রুম থেকে বের হয়ে টেবিলে চলে আসে। টেবিলে এসে জগটা থেকে পানি ঢেলে এক গ্লাস পানি নিয়ে যেতে মেয়ের রুমের দিকে চোখ যায়। রুমের ভেতর ডিমলাইটের আলোতে অল্প আলো দেখা যাচ্ছে। দরজাটা খোলা দেখে মাজেদা বেগম মেয়ের রুমের দিকে চলে গেলো।
.
রুমের ভেতর গিয়ে দেখে যে নিশাত গুটি মেরে বিছানার এক পাশে আন মনে বসে আছে জানালার দিকে তাকিয়ে। জানালার ফাঁক দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের আলো এসে সোজা নিশাতের চেহারায় এসে পড়েছে। দেখতে অসম্ভব দেখাচ্ছে নিশাতকে। জানালার পাশে কফির মগ।
মাজেদা বেগম মেয়ের পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে বলে,
কি রে মা এখনও ঘুমাস নাই, মন খারাপ নাকি।
,
মাথায় হাত দেওয়াতে চমকে যায়। কথাটা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে, চমকে উঠে পিঁছনে ফিরে তাকায়,
না আম্মু। এমনি ঘুম আসছে না। তাই বসে পূর্ণিমারাত অনুভব করছি।
কফিটা তাও তো খাস নাই মনে হচ্ছে।
আম্মু খেতে ভালো লাগছে না।
আমি কি আবার কফি বানিয়ে আনবো,,?
না আম্মু। আমার খেতে ভালো লাগছে না।
আমি কি মাথায় হাত বুলিয়ে দেব।
হুমম। (মাথা নাড়িয়ে)
আচ্ছা তুই শুয়ে পড়। আমি চাঁদর দিয়ে দিচ্ছি।
আম্মু তোমার কোলে শুয়ে পড়ি।
.
মেয়ের কথাটা মৃধু হেসে দিল।
আচ্ছা আমি জানালাটা বন্ধ করে দেই।
---আচ্ছা দাও।
.
মাজেদা বেগম বিছানা থেকে উঠে জানালাটা বন্ধ করে আবার বিছানায় চলে আসে।
নিশাত মায়ের কোলে মাথা রেখে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে পড়লো। মাজেদা বেগম বিছানার চাঁদরটা নিশাতের গায়ে দিয়ে দেয়। মাজেদা বেগম মেয়ের মাথা বুলিয়ে দিচ্ছে। নিশাত একটু নড়েচড়ে আবার মায়ের কোলে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ে। মাজেদা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
.
মাজেদা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিজেও ঘুুমিয়ে যায়। নিশাত একটু নড়েচড়ে উঠতে মাজেদা বেগম ঝাঁকি দিয়ে উঠে। চোখ খুলে দেখে যে নিশাত ঘুম জগতে পারি দিছে।
মাজেদা বেগম তখন ঘড়ির দিকে তাকায়। ঘড়ি তখন ১২:০৩ মিনিট বাজে।
মাজেদা বেগম নিশাতের শরীরে ভালোভাবে চাঁদর দিয়ে দরজা আস্তে করে লাগিয়ে দিয়ে মাজেদা বেগম রুমে চলে যায়।
.
.
ফারহান দুপুরবেলা আজ ঘুুমিয়ে আছে।
বুকের উপর একটা বই। বই পড়তে পড়তে কখন যে ঘুুমিয়ে পড়েছে সেটা জানে না।
কারও ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভেংগে যায় ফারহানের। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে চৈতী। আবার বালিশে মাথা রেখে ঘুুমিয়ে যায়।
---এই ভাইয়া,
-কি হয়ছে, যাতো, একটু ঘুমাতে দে।
অনেক ঘুম পারছিস। এখন ঘুম থেকে উঠে পড়।
যা তো তুই। আমি ঘুম পারবো।
একটু পর আছরের আজান দিবে তো। এই সময় ঘুম পাড়তে নেই ভাইয়া।
ডিস্টার্ব করিস না তো তুই। আমি ঘুমাবো।
ভাইয়া উঠ তো,
.
চৈতী ফারহানকে জোর করে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। কি আর করা। ফারহান ছোটবোনের জোরাজোরি করাতে উঠে পড়ে। তারপরে চৈতী চলে যায়।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৪:৪০ বাজে।
একটু ঘুমিয়েছে। শান্তিতে ঘুম পাড়া যায় না। কিছুক্ষণ মনে মনে বক বক করে বিছানা থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়।
.
.
এদিকে নিশাত সন্ধ্যায় পড়তে বসেছিল।
তারপর পড়া শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে নিশাত টিভি দেখছে।
পাশে থাকা ফোনটা বেজে উঠে। নিশাত ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে টুম্পা ফোন দিয়েছে। ফোনটা রিসিভ করে নিশাত।
---হ্যালো,
কেমন আছিস দোস্ত?
আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি দোস্ত, তুই?
আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি, আংকেল আন্টি কেমন আছে?
আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহর রহমতে ভালো আছে,, আংকেল আন্টি ও রিফাত (রিফাত টুম্পার ছোটভাই) কেমন আছে?
আমারও আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছে। খাইছিস দোস্ত?
---হ্যাঁ দোস্ত। তুই?
আমিও খেয়েছি আল্লাহর রহমতে। কি করিস এখন?
টিভি দেখছি। তুই?
টেবিলে বসে আছি,,?
পড়ছিস নাকি রে দোস্ত,,,!
আর বলিস না তুই, আমি পড়ার নামে টেবিলে বসে আছি, আজ পড়তে মন চাচ্ছে না। তাই তোকে ফোন দিলাম।
---ও,, তাহলে সুন্দর একটা ঘুুম দে। সকালে উঠে দেখবি মনটা ভালো লাগছে।
হ্যাঁ রে দোস্ত, আর শোন,
---বল,
শনিবারে ভার্সিটিতে থেকে ফুঁচকা খেতে যাব লেকের পাড়ে।
কাল শুক্রবার, মাঝখানে ১ দিন আছে। আল্লাহ্ তায়ালা বাঁচিয়ে রাখলে যাব।
কে দোস্ত, ভালো থাক, টিভি দেখ।
---আল্লাহ হাফেজ।
.
টুম্পা ফোন কেটে দেয়।
নিশাত ফোনটা সোফায় রেখে টিভি দেখতে মুগ্ধ হয়ে যায়।
.
.
চৈতী মায়ের কপালে জলপট্টি করছে। জ্বর এসেছে প্রচন্ড শরীরে। বিকালের দিকে জ্বর ছিল না। এখন গা ঝারা দিয়ে জ্বর এসেছে।
অনেক্ষন আগে চলে গেছে ফারহান মায়ের জন্য ঔষুধ কিনতে । এখনও আসছেনা দেখে চৈতী ফোন করে ফারহানের কাছে।
একটুখানি রিং বেজে ফারহান রিসিভ করে।
---হ্যালো,,,
ভাইয়া কোথায় তুই?
এইতো বাসার কাছাকাছি। কোন রিক্সা ছিল না। তাই লেট হচ্ছিল।
আম্মুর জ্বর তো কমছে না। একটু তাড়াতাড়ি আয়।
তুই জলপট্টি করতে থাক। আমি দ্রুত আসতেছি।
তাড়াতাড়ি আয় ভাইয়া।
.
ফোনটা রেখে দেয় ফারহান।
মমতা রহমান চোখ খুঁলতে পাড়ছেন না। চোখ বুঝে অনেক কষ্ট করে বলে উঠলো,
ফারহান কোথায় মা। ( আস্তে করে)
এই তো বাসার কাছে চলে এসেছে, একটু পর চলে আসবে আম্মু।
---ও,
.
মমতা রহমান লম্বা লম্বা দম নিচ্ছে। মাথায় প্রচন্ড ব্যথা করছে। চোখ খুলতে পারছেনা।
.
একটুপর ফারহান ঔষুধ নিয়ে চলে এলো।
হালকা কিছু খেয়ে এন্টিভ্যাওটিক ঔষুধ খায় মমতা রহমান।
মায়ের পাশে বসে থাকে ফারহান, চৈতী। মিজান সাহেব গত দুদিন হলো বাসায় নেই । বাসায় না থাকায় আরও বেশি করে জ্বর বেধে যায় মমতা রহমানের।
জ্বরের সাথে ঘুমের ঔষুধ খাওয়ায়ে দেওয়াতে একটু পর মমতা রহমান ঘুমিয়ে যায়।
ভাইয়া অনেক রাত হয়ছে তুই গিয়ে ঘুুমা । আমি আম্মুর কাছে শুয়ে থাকি।
আমি আম্মুর কাছে ঘুমিয়ে থাকি। তুই তোর রুমে গিয়ে ঘুম পাড়।
তুই তোর রুমে গিয়ে ঘুম পাড় ভাইয়া। আমি মায়ের সাথে শুয়ে থাকি। কোন সমস্যা হবে না।
---আচ্ছা যাচ্ছি,
.
ফারহান চলে গিয়ে কি ভেবে দরজার কাছ থেকে ফিরে এসে বলে,
যদি আম্মুর আবারও জ্বর ওঠে। তাহলে আমাকে ফোন দিস। আর কোন সমস্যা হলে ফোন দিয়ে জানাস।
ঠিক আছে ভাইয়া, তুই গিয়ে ঘুমা। কোন সমস্যা হলে ফোন দিব নি।
.
ফারহান রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে চলে যায়। রুমে এসে পোশাক চেন্জ করে ঘুমিয়ে যায়।
.
.
সকালে মমতা রহমানকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে দেখিয়ে আনে ফারহান।
ডাক্তার থার্মমিটার দিয়ে জ্বর মেপে ঔষুধ দেয়। পরে তারা দুজনে বাসায় চলে আসে।
.
ফারহান ও মিজান সাহেব জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদে চলে যায়।
সারা সপ্তাহে নামাজ না পড়লেও জুম্মার নামাজ (শুক্রবারের নামাজ) নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে জুম্মার নামাজ পড়ে।
.
নামাজ পড়ে এসে খেয়ে দেয়ে আরাম করার জন্য গা এলিয়ে দেয় খাটের সাথে ফারহান । সারাদিন খাওয়া দাওয়া আর বই পড়া ছাড়া কিচ্ছু কাজ নেই ফারহানের।
চাকরির জন্য কয়েক যায়গায় সিভি (CV) জমা দিয়েছে।
কিন্তু, চাকরি পছন্দমত হয় না ফারহানের। তাই ভালো স্যালারি চাকরি পেয়ে জয়েন করে না ফারহান।
কাল একটা সরকারি অফিসের জন্য CV জমা দিয়েছে। এটার ইন্টারভিউ ছাড়া কিছুই কাজ নেই এখন।
ফারহান বিছানা থেকে উঠে গিয়ে বুক সেল্ফের দিকে চলে যায় বই পড়বে বলে।
একটা বই নিয়ে এসে বিছানায় হেলান দিয়ে পড়তে থাকে।
.
.
নিশাত রুম থেকে বের হয়ে মায়ের রুমে চলে যায়।
মাজেদা বেগম বিছানায় শুয়ে আছে। আজ আব্বু নেই। আমজাত আলি জুম্মার নামাজ পড়ে এসে খেয়ে একটু আরাম করে বাহিরে চলে যায়। তাই মাজেদা বেগম শুয়ে আছে। এখন কোন কাজ নেই।
মেয়ের উপস্থিতি দেখে নিজেই বলে উঠলেন,
---কিছু বলবি মা?
না মানে একটু ছাঁদে যেতাম।
আচ্ছা যা। কিন্তু, সন্ধ্যা হওয়ার আগে চলে আসবি।
---ঠিক আছে আম্মু,
.
নিশাত চলে যায় ছাঁদের দিকে।
সিঁড়ি ভেয়ে ছাঁদে উঠে আসে নিশাত।
ছাঁদে উঠে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো কোথাও মানুষ আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে গল্প করতে করতে বিকালটা কাটানো যাবে। হ্যাঁ, ছাঁদে একজন আছে। সে হলো চৈতী। এই বাড়িওয়ালার মেয়ে। নিশাতের গল্প করতে খুব ভালো লাগে।
.
নিশাত চলে গেলো চৈতীর কাছে। একি ভার্সিটিতে পড়াশোনা করে দুজন। ডিপার্টমেন্ট ভিন্ন। কিন্তু, পরিচয়টা হয়েছে আগের বাসা থাকার সময়। সেরকম কথা হয় না চৈতীর সাথে। দরকার ছাড়া কিছুই কেউ বলে না। নিশাত চৈতীর পাশে গিয়ে বলে,
---আমি কি এখানে বসতে পারি?
.
চৈতী পিঁছন ফিরে তাকিয়ে দেখে নিশাত। তখন চৈতী মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে উঠে,
এখানে বসার অনুমতি লাগবে নাকি। তাও আবার এই বাসার ভাড়াটিয়া। সমস্যা নেই তুমি বসতে পার।
,
নিশাত বসতে বসতে বলে উঠলো,
হ্যাঁ, তা ঠিক। কিন্তু, আমাদের জন্য তো ছাঁদ ভাড়া দেওয়া হয় নাই।
তুমি এসব কি বলছো। বাসা ভাড়া নিয়েছো। ছাঁদ কেনো ভাড়া দিতে হবে। প্রয়োজন হলে তারা আসবে সমস্যা কি তাতে,
আর বলো না চৈতী। আমরা যে আগের বাসায় থাকতাম ওখানে বাড়িওয়ালার মেয়ে ছিল। সে যখন ছাঁদে থাকতো তখন কেউ ছাঁদে যেতে পারবেনা। মাঝে মাঝে কেউ ছাঁদে গেলে মেয়েটা রেগে গিয়ে বলে উঠতো "বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছে ছাঁদ ভাড়া দেওয়া হয় নাই। তাই বললাম।
ও, এই কথা।
---হুম।
আমরা সেরকম না। যার প্রয়জোন তাকে তো ছাঁদে আসতে হবে। সবার জন্য ছাঁদ ফ্রি।
---ও।
আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা। পড়াশোনা কেমন চলছে?
এই তো আল্লাহুর রহমতে ভালো। তোমার?
আমারও আল্লাহুর রহমতে ভালো।
কি করছিলে ছাঁদে একা একা বসে।
নানুভাই ফোন দিয়েছিল। রুমের ভেতর আজ নেটওয়ার্ক ছিল না। তাই ছাঁদে এসে কথা বলছিলাম।
---ও,
তুমি হঠাৎ করে আজ বিকালে ছাঁদে এলে।
এমনি! আর আমি প্রায় ছাঁদে আসি।
---ও,
-তোমাকে একটা কথা বলি?
আবার ফোন দিয়েছে একটু কথা বলে নেই।
ঠিক আছে কথা বল,
.
চৈতী ফোন রিসিভ করে কথা বলছে।
নিশাত রেলিং ধরে শহর দেখছে আর মনে মনে ভাবতে থাকে ছেলেটা কি হয় জিজ্ঞেস করবো? না থাক জিজ্ঞেস করলে যদি মাইন্ড করে। এর চাইতে না জিজ্ঞেস করা ভালো।
কিন্তু, নিশাতের মন মানছে না। জিজ্ঞেস করি একটু।
মন ব্যাকুল হয়ে আছে কয়দিন ধরে। ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলেছে নিশাত। কয়দিন ধরে না দেখা হওয়াতে বেশি ব্যাকুল হয়ে পড়েছে।
চৈতীর কথা শুনে এলোমেলো চিন্তা মাথা থেকর পালিয়ে যায়।
নিশাত, আমি একটু আম্মুকে ফোন দিয়ে আসি! নানুভাই কথা বলবে আম্মুর সাথে।
---ঠিক আছে,
---আমি যাব আর আসব।
---ওকে,
.
চৈতী ফোন নিয়ে চলে যায়।
নিশাত আবার ভাবনায় জড়িয়ে যায়। একবার চৈতীকে বলে দেখি? না, থাক দরকার নেই। কি বলবো আর কি ভেবে আবার ভুল বুঝে ফেলে। এর চেয়ে না বলা ভালো।
সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে হেঁটে কে যেন আসছে। নিশাত পিঁছন ফিরে তাকায়। এখন দেখা যাচ্ছে না। তারমানে সিঁড়িতে আছে। ছাঁদে কেউ আসছে মনে হয়। আর যার দরকার সে আসবে। মনে মনে কথাগুলি বলে আবার শহর দেখতে থাকে রেলিং ধরে।
একটু পর মনে হলো কেউ তার দিকে আসছে। সেটা ভেবে নিশাত পিঁছন ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। বিশ্বাস করতে পারছেনা। তাই দুচোখের পলক ফেলে। না সত্যি সেই ছেলেটা।
আজকে ছেলেটাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। নীল কালারের একটা পান্জাবি পরেছে। কালো প্যান্ট পড়া। পায়ে একটা স্যান্ডেল। । চুলগুলি বাতাসে উড়ছে। দেখতে খুব সুন্দর লাগছে।
সে আমার দিকে আসছে।
তার আসা দেখে মনে মনে বলে উঠি, ছেলেটা এই ছাঁদে কেনো? এটাই কি তাহলে বাড়িওয়ালার ছেলে? হুমম হতে পারে। আবারও নাও হতে পারে। কারণ, আমি যখন রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন তো নিচ থেকে দেখে ছাঁদে আসে? মাথায় বিভিন্ন প্রশ্ন নাড়াচাড়া করছে।
ছেলেটা আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। আমি একবার ছেলেটার দিকে তাকালাম। আবার নিচের দিকে তাকালাম। এই ছেলে সামনে এলে তার দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। ছেলেটার চোখে কি জেনো আছে?
ছেলেটা পাশ থেকে বলে উঠলো,
---আপনাকে একটা কথা বলবো!
.
আমি কিছু বলছিনা। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না।
আমার নিরবতা দেখে ছেলেটা আবার বলে উঠলো,
---আপনাকে একটা কথা বলতে এসেছি! জাষ্ট একটা কথা বলে চলে যাব।
.
আমার ভেতর থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না। কেউ একজন গলা চেঁপে ধরে আছে। এরকম মনে হচ্ছে।
আমার নিরবতা দেখে ছেলেটা বোধহয় রেগে গেছে। তার দিকে একবার তাকিয়ে বুঝলাম।
এই মেয়ে তোমাকে কি বলছি! কথা কানে যায় না। নাকি বোবা হয়ে গেছো! সেদিন তো খুব তো বকবক করছিলে। (রেগে গিয়ে)
.
কথাটা শুনে মেজাজটা গরম হয়ে গেলো। তবুও কিছু বলছিনা। নিজেকে কন্ট্রোল করছি। কি থেকে কি বলবো আর ওমনি ঠাস করে লাগিয়ে দিবে। এটা কখনও করবো না।
কি হলো কথা বলছো না কেনো? নাকি আরও কিছু বলবেন মনে মনে ভাবছেন।
আমি মটেও সেসব কিছু ভাবছিনা। আপনি বেশি বোঝেন একটু ।
কি বললি তুই ,
ভদ্রভাবে কথা বলুন,
না বললে কি করবি তুই,
---কিছু না,
.
কথাটা বলে নিশাত চলে যেতে লাগলো পাশ কাঁটিয়ে। তখন ফারহান হাত ধরে ফেলে।
---হাত ছেঁড়ে দিন।
---ছাঁড়বো না।
---ছেঁড়ে দিন বলছি।
---আগে আমার কথাটা শুনে যাও।
আপনার কোন কথা শুনতে আমার ইচ্ছে নেই।
মেজাজটা গরম করবে না বলে দিচ্ছি।
আপনার তো সব সময় মেজাজটা গরম থাকে মনে হচ্ছে। আপনি আমার হাত ছেঁড়ে দেন।
আমার কথাটা না শোনা পর্যন্ত ছাঁড়বো না।
ছেঁড়ে দিন বলছি,
না, আমার কথাটা শুনে যাও তারপর।
ভালো হচ্ছে না কিন্তু, কেউ দেখে ফেলবে।
দেখলে দেখুক। তাতে আমার কিচ্ছু আসে যাই না।
দেখলে দেখুক মানে? লাষ্টবার বলছি হাঁত ছেঁড়ে দিন। (রেগে)
না দেব না। না ছাঁড়লে কি করবি তুই,
---ঠাসসসসস,

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here