বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১১তম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 19, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১১তম পর্ব)

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (১১তম পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
---ঠাসসসসস,
.
নিশাত ঠাস করে চড় মেরে দেয় ফারহানকে। চড় মেরে নিশাত অবাক হয়ে মুখে হাত দেয়। সে ভাবতে পারে নাই চড় দিবে। নিশাত ভয় খেয়ে যায় অনেক।
ফারহানের চোখটা অগ্নি রুপ ধারণ করছে। অনেকটা অবাক হয়ে গেলো। কখনও ভাবতে পারে নাই মেয়েটা চড় মারবে। কিন্তু, সে ধারণা পাল্টে যায়।
ফারহানের ওরকম চোখ দেখে ভয় পেয়ে পিঁছুতে লাগলো। ফারহানও একটু একটু এগিয়ে যেতে লাগলো নিশাতের দিকে। সেটা দেখে নিশাত আরও ভয় পাচ্ছে খুব।
ফারহান এগিয়ে যাচ্ছে। মনের ভেতর নানা রকম চিন্তাভাবনা জড়িয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে নিশাতের।
নিশাত দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খায়। সে পিছনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হয়। শরীর দেওয়ালের সাথে ঠেকে গেছে।
ফারহান নিশাতের দুহাত দেওয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে। নিশাত হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ব্যর্থ হয়। ব্যথা পেলেও তবুও আবার চেষ্টা করে। কিন্তু, এমন ভাবে চেপে ধরে আছে দেওয়ালের সাথে। যত চেষ্টা করা হয় না কেনো কোন লাভ হবে না। তবুও যে নিশাত চেষ্টা করে যাচ্ছে,
ফারহানের চোখে অশ্রু ভেসে ভেড়াচ্ছে। নিশাত হাতে ব্যথা পাবে সেটার কোন লক্ষ নেই ফারহানের। দুহাত দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে আছে। কোন কথা বলছে না। নিজের রাগকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে ফারহান। কিন্ত, সেটা হচ্ছে না।
তুই আমাকে চড় মারলি, আজ আমি তোর এমন কিছু করবো যে, কখন সমাজের কাছে মুখ দেখাতে পারবিনা। ( প্রচন্ড রেগে)
আ, আ, আমি ইচ্ছে ক,করে চ,
.
ফারহানের আঙ্গুল নিশাতের ঠোঁটের উপরে রাখলো। তখন নিশাত চুপ হয়ে যায়। ।
নিশাতের গা' শিউড়ে উঠে। এই প্রথম কোন ছেলে তার এত কাছে এসে ঠোঁট স্পর্শ করছে। অনেক ভয় পেয়ে যায়। এমন কথা শুনে। চোখের ভেতর অশ্রু জমে গেছে।
তারপর ফারহান আবার বললো,
এই মেয়ে নিজেকে কি মনে করিস? তোমার সাথে এগিয়ে এসে কথা বলছি বলে মনে করিস না তোর প্রেমে পড়ে গেছি! তোর মত অনেক মেয়ের প্রোপজাল পেয়েছি বুঝলি। আর তুইতো পিচ্চি। আর তুই আমাকে ঠাস করে চড় মেরে দিলে। হাত ধরেছি বলে চড় মারতে হবে তোর। নিজেকে কি মনে করিস বল?
আ, আমি ইচ্ছে করে আপনাকে চড় মারি নাই। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ। (কেঁদে কেঁদে)
চুপ, একদম চুপ। কোন কথা বলবিনা।
আমি তো আ, আপনাকে কি, কিছু করি নাই। আমাকে ছে, ছেড়ে দিন প্লিজ,
বলছি না তোকে চুপ করতে। (রেগে)
আপনি আমার সাথে এমন করেন কেনো,? আমি আপনাকে কি করেছি?
তোকে দেখলে আমার সহ্য হয় না। তোদের মত মেয়েদের দেখলে আমার রক্ত তিব্র আকার ধারণ করে। তোরা পৃথিবীর সহজসরল মানুষদের তোদের ফাঁদে ফেলে যা ইচ্ছা করিস,
আমি কি কিছু করেছি আপনাকে, আমি আপনার পায়ে পড়ি। আমাকে কিছু করবেন না প্লিজ। আপনি আমাকে যা বলবেন আমি তাই করবো। তবুও আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ। ( অঝরে কেঁদে)
তোরা তো প্রথমে এরকম করিস। তারপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিব্র যন্ত্রণায় জাল বুনিস। পরে সেই জালে সবাই আটকে যায়। আর তখন তোরা নিজের জন্য সব করতে দ্বিধাবোধ করিস না। একটা জীবন ধংস করে দিতে একটু থেমে যাস না। তোদের মত মেয়েদের আমি ভালো করে চিনি।
আমি তো কি,  কিছু করি নাই আপনাকে। আপনি কেনো আমার সাথে এরকম করছেন। আমি আপনার পায়ে পড়ি। আমাকে ছেড়ে দিন। আমি এই বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাব। আর কখন আপনার সামনে আসবো না। এখন আমাকে ছেড়ে দেন প্লিজ। (কেঁদে কেঁদে)
---হাহাহাহা,
.
ফারহান অদ্ভুতভাবে একটা অট্রো হাসি দেয়। সেটা দেখে নিশাত খুব ভয় পেয়ে যায়। এ কেমন ছেলে? সে কি একটা নরপিশাচ? আমি কি তার হাতে! হে, আল্লাহ " আপনি আপনাকে এই পিশাচের হাত থেকে রক্ষা কর। মনে মনে বলে উঠলো নিশাত।
---তুই দেখতে খুব সুন্দরী,
.
নিশাত আরও ভয় পেয়ে যায় কথাটা শুনে। ভয় পেলে কি আর হবে। সে যে আজ নিরুপায়। সে যে পিশাচের হাতে বন্ধি।
নিশাতের যতটুক শক্তি আছে ততোটুকু দিয়ে আবার চেষ্টা করলো ফারহানের থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু, তার শক্তি দিয়ে ফারহানের শক্তিতে হার মেনে যায়।
.
.
আম্মু এই নাও তোমার কফি। আমি গেলাম ছাঁদে।
এই শোন,
বল আম্মু তাড়াতাড়ি।
ফ্লাক্সটা দিয়ে যাতো মা।
আচ্ছা এনে দিচ্ছি।
.
চৈতী ফ্লাক্সটা দিয়ে ছাঁদের দিকে চলে যেতে লাগলো।
.
কি রে কি ভাবছিস! আমি পিশাচ, হাহাহা,
.
আবারও একি হাসি দিল ফারহান। নিশাত এবার অঝরে কাঁদতে লাগলো ফারহানের দিকে তাকিয়ে। নিশাতের যতটুকু শক্তি আছে তা দিয়ে চেষ্টা করছে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু, তার চেষ্টা ব্যর্থ। হে, আল্লাহ্! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি পারলাম না নিজেকে সেভ রাখতে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আজ শেষ হয়ে যাব হয়তো। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও,
---কি রে ভয় পাচ্ছিস,
.
নিশাত অশ্রু ভরা চোখ নিয়ে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা যেসব কথা বলেছে সেগুলি শুনে কি বলবে। নিজেকে খুব ঘৃণা করছে। এমন ছেলেকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে। এই ছেলেকে কখনও ভালোবাসা যায়না। কখনও না। ওতো একটা পিশাচ। না জানি কত মেয়েকে,
আজ আমিও ওই মেয়েদের মত তার হাতে নিজের জীবন বিসর্জন দিচ্ছি, কথা মনে হতে গা শিউড়ে উঠছে।
---কি রে, কি ফাঁদ তৈরি করছিস?
আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ, আপনি আমাকে যতখুশি তত চড় মারেন। আমি কিচ্ছু বলবো না। তবুও আমার কোন ক্ষতি করবেন না, প্লিজ।
.
.
ওহ্ ফোনটা মার কাছে। ধ্যাত ফোনটা আনা হয়নি। আবার চলে গেলো চৈতী সিঁড়ি থেকে। প্রায় ছাঁদের কাছাকাছি এসেছে আর ওমনি ফোনের কথাটা মনে পড়ে যায়।
চৈতীকে দেখে মমতা রহমান বলে উঠলো,
কি রে কিছু হয়েছে?
না আম্মু।
---তাহলে,
ফোনটা নেওয়ার জন্য এসেছি।
ও, এই নি। কথা বলে বিছানায় রেখে দিছি।
.
চৈতী ফোনটা নিয়ে ছাঁদের দিকে গেলো।
.
.
আসলে আমার ভুল। আমি না জেনে তোমাকে সেদিন ইচ্ছে করে এক্সিডেন্ট করি। আর কিছু একটা নিয়ে চড় মারি। আমি তারপরে ইচ্ছে করে চড় মারি নাই। বিশ্বাস কর। আমার রাগ এতো বেশি যে সেটা কন্ট্রোল করতে না পেরে তোমাকে চড় মেরেছি। আর বিশেষ করে আমার মা-বাবকে নিয়ে কেউ যদি কথা বলে তাহলে আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। তাই তো চড় মেরেছি। কারণ, তুমি যতবার আমার সাথে কথা বলেছো। ততবার আমার মা-বাবকে নিয়ে বলেছো। তাই আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নাই। আর আজ এই বিহেভিয়ার জন্য সত্যি দুঃখিত।
.
নিশাত ফারহানের কথাটা শুনে বিশ্বাস করতে পারছেনা। ফারহান কি দুমুখো মানব? যখন তখন রুপবদলাতে পারে। হয়তো আমাকে কাছে পেতে এরকম ছলনাময়ী অভিনয় দেখাচ্ছে। তার কথাকে কখন বিশ্বাস করা যাবে না। কখনও না। একটু আগে যে রুপ দেখলাম। কখন সে ভালো মানুষ হতে পারে না। আমি কখন সেটা করবো না। নিশাত মনে মনে বললো কথাগুলি।
কি হলো, আমাকে বিশ্বাস করতে পারছোনা তাই তো। আমি জানি বিশ্বাস করতে পারবেনা।
.
নিশাত শুধু ফারহানের কথা শুনছে। হ্যা বা না কিছুই বলছেনা। আর কি করে বিশ্বাস করবে। এই ভালো রুপের মাঝে যে খারাপ রুপ আছে সেটা কি করে বুঝবে। না না কখনও তার কথায় আমাকে বিশ্বাস করা যাবে না। (নিশাত)
আচ্ছা বিশ্বাস করতে হবে না। আমাকে ক্ষমা করে দিও I Am Really Many Many Sorry...
.
কথাটা শুনে নিশাত কি করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। ফারহানের চোখের মাঝে নিশাত তাকিয়ে থাকতে পারছেনা। কি যেন তাকে আকর্শন করে। সব কিছু ভুলে যায়। হয়তো প্রেমের মাহয়ারিতে পড়ে আছে।
.
---ভাইয়া,
পাশ থেকে চৈতীর কন্ঠটা শুনে চমকে গিয়ে ফারহান নিশাতের হাতটা ছেড়ে দেয়।
নিশাত চমকে যায়। কিছুটা দূরত্ববজায় রাখে। নিশাত তাড়াতাড়ি করে চোখের পানি মুঁছে ফেলে। যেন না বুঝতে পারে সে কেঁদেছে। কিন্তু, হাতটা ব্যথা অনুভব করছে। যেভাবে দেওয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে ছিল তার হাতটা।
ফারহান চোখটা মুঁছে পাশ কেঁটে চলে গেলো।
চৈতী কয়েকবার ডাক দিল। কিন্তু, ফারহান না থেমে চলে গেলো।
চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। আজকের সূর্যটা পশ্চিমাকাশে লুকিয়ে পড়বে কিছুক্ষণ পরে।
.
চৈতী নিশাতের কাছে চলে গেলো। কি বলবে,। কিছুই বুঝতে পারছেনা। চোখের সামনে এসব কি দেখলো। কি করে তার সাথে কথা বলবে। নিশাত কি ভাববে? তার ভাই একটা, না না, আমার ভাইয়া খারাপ হতে পারে না। আমি আমার ভাইয়াকে চিনি। সে এমন কিছু করবে না যাতে তাদের মাথা নিচু হবে। কিন্তু, চোখের সামনে যেটা দেখেছে। সেটা দেখে সব বিশ্বাস আজ মাটি চাঁপা পড়ে গেছে।
.
নিশাত মনে মনে আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করছে। এতোদিন যে, চৈতী আর ফারহানকে, না না এটা মুখে আনা পাপ। ওরা তো ভাইবোন। হে, আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি না জেনে এসব বলেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন।
নিশাত একটা কথা বলতে পারি। I Men তুমি ভাইয়াকে চেনো?
---নিশ্চুপ ।
.
নিশাত রেলিং ধরে রক্তিম সূর্যটা দেখছে। না পারছে চিৎকার করে কাঁদতে। না পারছে কষ্টটা লুকাতে।
নিশাতকে চুপ দেখে চৈতী বুঝে ফেললো। তার ভাইয়া এমন কিছু করেছে যেটা নিশাত বলতে অনিচ্ছুক করছে। তাহলে, ১৮ বছর ধরে এই মিথ্যে জেনে, ভেবে এসেছে।
---নিশাত চুপ করে থেকো না। উত্তর দাও?
.
নিশাত ঘুরে তাকালো চৈতীর দিকে।
না।
মিথ্যে বলবে না । আমি জানি, তুমি ভাইয়াকে চেনো।
,
নিশাত ঘুরে তাকালো চৈতীর দিকে। কি বলবে চৈতীকে? সে তো বিশ্বাস করবে না। আর কি করে বিশ্বাস করবে। চোখের সামনে এসব দেখলে কেই বা বিশ্বাস করবে যে, আমি চিনি না। কারণ, কোন অপরিচিত মেয়েকে ওমন ভাবে দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না যে, আমি চিনি না। যাই হোক আমি কিছু বলবো না চৈতীকে। (নিশাত মনে মনে বললো)
নিশাতের নিরবতা দেখে চৈতী বলে উঠলো,
---আমি জানি, তুমি ভাইয়াকে ভালোবাসো!
.
কথাটা শুনে নিশাত, চৈতীর দিকে তাকালো। কি বলবে এখন? আসলে তো, নিশাত ফারহানকে ভালোবেসে ফেলেছে। না, না, ওই পিশাচকে কখনও ভালোবাসা যায় না। আমি ভুল মানুষকে ভালোবেসে ফেলেছি। আর নিশাত কেমন করে জানলো? হয়তো আন্দাজে বলছে।
চৈতী বলে উঠলো,
---আমি জানি তুমি কি ভাবছো!
.
নিশাত অবাক হয়ে গেলো। আমি কি ভাবছি। সেটা চৈতী জানে।
চৈতী নিশাতের মুখ দেখে বলে উঠলো,
আমি কেমন করে জানলাম তাই তো।
---না, মানে।
তুমি ভাইয়াকে একটা পিশাচ ভেবেছো তাই তো। কি ঠিক বলি নাই।
.
নিশাত আশ্চর্য হয়ে যায়। আমি কি ভাবছি, সেটা জানে। কেমন করে জানে। বোধহয়, "আল্লাহ তায়ালা" নিশাতকে এই ক্ষমতা দিয়ে দিছে।
তুমি কি ভাবছো এটাও বলে দিতে পারি!
.
নিশাত আরও অবাক হয়ে যাচ্ছে।
আমি কেমনে জানলাম তাই তো। আসলে, "আল্লাহ তায়ালা" আমাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। মাঝে মাঝে বলতে পারি।
.
নিশাত ঘুরে তাকিয়ে সন্ধ্যা শহর দেখছে। কি মায়া মায়া একটা ভাব এসেগেছে শহরে। হালকা হালকা কুয়াশার মত আবছা আবছা হয়ে আসছে চারদিকে।
আমি জানি ভাইয়া এমন কিছু করবেনা যাতে তুমি লজ্জিত হও। তাই আমি ভাইয়ার পক্ষ হতে ক্ষমা চাচ্ছি। Am So Sorry Nishat,
.
নিশাত কথাটা শুনে ঘুরে তাকালো চৈতীর দিকে। কি অদ্ভুত ভাবে বলছে। কন্ঠসর কেমন যেন অন্যরকম লাগছে।
তোমার ভাইয়ার প্রতি এতো কনফিডেন্স? (Confidence)
আমি আমার ভাইয়াকে ১৮ বছর ধরে চিনি। এমন কিছু করবে না যাতে তুমি সমাজের কাছে বরং নিজের কাছে লজ্জিত হও।
এতো কনফিডেন্স সবার ভাইয়ার উপর থাকে।
.
নিশাত আর কিছু বলতে পাড়ছেনা। কি বলবে, মাথায় কিচ্ছু ঢুকছেনা। কি থেকে কি বলছে কিছুই বুঝতে পাড়ছেনা। কেনো রুমে যেতে পাড়ছেনা সেটাও বুঝতে পাড়ছেনা।
---হ্যা, তা ঠিক। কিন্তু, আমার ভাইয়া তাদের থেকে আলাদা। ভাইয়ার প্রায় সব ঘটনা আমাকে বলে।
এতো কনফিডেন্স তোমার ভাইয়ার প্রতি। বাহ্! খুব ভালো।
---হ্যা, অনেক কনফিডেন্স। কারণ, তোমাকে যে চড় মেরেছে সে কথাটাও আমাকে বলেছে।
.
নিশাত আবার চৈতীর দিকে তাকালো। চড় মেরেছে সেটাও বলেছে? হয় তো যেটা বলা যাবে সেটা বলে। কিংবা খারাপ কথা লুকিয়ে মিথ্যে গল্প বানিয়ে বলে!
হয়তো খারাপ দিকগুলি না বলে পজিটিভ দিক গুলি বলে। এটাই তো স্বাভাবিক।
নো, তোমাকে ইচ্ছে করে চড় মারে নাই। মনে করেছিল তুমি তিথি,
হোয়াট! তিথি মানে,
হুবাহু তোমার মত দেখতে।
তাই বলে আমি তিথি সিয়র ছিল,
জানি না। কিন্তু, পড়ে তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য গিয়েছিল ভার্সিটিতে । কিন্তু, তার আগে তুমি অঘটন ঘটালে তাই ভাইয়া রাগকে কন্ট্রোল করতে না পেরে তোমাকে চড় দেয়। এতো রাগ ছিল না ভাইয়ার। আর বেশির ভাগ রাগ হলো সুন্দরী মেয়েদের প্রতি ।
তোমার কথা আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা। আমার মাথার ভেতর কিচ্ছু ঢুকছে না।
আর একটা কথা তোমাকে বলি,
বল। তোমার ভাইয়ার কোন কথা বলবা না প্লিজ,
আমি জানি ভাইয়া তোমাকে হাতটা ধরেছিল। এর বেশি কিছু হয় নি।
যদি বলি তোমার ভাইয়া,
থামলে কেনো বলো, আমি জানি তুমি যেটা বলতে চেয়েছিলে সেটা বলতে পাড়বেনা। কারণ, ভাইয়াকে এখনও ভালোবাসো। আর ভালোবাসার মানুষটির প্রতি কোন মিথ্যে কিছু বলতে পাড়বেনা। তোমার গলা কাপছে। কি ঠিক বলছি না,
---প্লিজ স্টপ চৈতী,
.
চৈতী আর কিছু বললো না।
নিশাত রেলিং ধরে আছে। পশ্চিমাকাশে সূর্যটা লুকিয়ে পড়েছে। চতুর্দিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।
শহরের প্রতিটা রুমে থেকে আলো ছড়িয়ে পড়ছে জানালা পেরিয়ে। কি অদ্ভুত একটা সময়। আল্লাহ তায়ালা " তার কত নিয়ামত। দিন থেকে রাতের রুপান্তরিত করছে।
দিনের বেলায় কোন লাইট /বাতি লাগেনা। সূর্যের নিজেস্ব আলো দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের দেশ সহ সারা পৃথিবী।
.
নিশাত একটু এগিয়ে গিয়ে বললো,
তিথি কি আমার মত দেখতে?
.
চৈতী নিশাতের মুখের দিকে তাকালো।
কেনো?
না মানে,
না মানে কি তিথির সম্পর্কে জানতে চাচ্ছো তাই না,
জানি না।
আজানের সময় হয়েছে নামাজ পড়বে না।
না! আজ পড়ব না। তুমি?
আমি পড়ি, কিন্তু, আজ পড়তে ইচ্ছে করছেনা। আর ভালো লাগছেনা। কাল থেকে পড়ব।
---ও,
তুমি কি আজানের জবাব দিতে পারো?
বুঝলাম না?
আরে আজানের উত্তর বলে। মানে, মুয়াজ্জিন সাহেব যখন আজান দেয় তখন সে যা বলে সেটাই বলা। আর যখন আজানের মধ্যে, মুয়াজ্জিন সাহেব বলবে “হাইয়্যালাচ্ছ ছলাহ্” "তখন বলবে, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা। “হাইয়্যালাচ্ছ ছলাহ্” "তখন বলবে, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা। আবার যখন বলবে, "হাইয়্যালাল ফালাহ্” তখন বলবে,, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা। "হাইয়্যালাল ফালাহ্” তখন বলবে, লা হাওলা ওলাকুয়াতা ইল্লাবিল্লা।
এটা বললে কি জবাব দেওয়া হয়। আর এতে কি নেকি বা সওয়াব পাওয়া যাবে?
তারপর দরুদ শরীফ পড়বে। তাহলে নেকি ও সওয়াব পাবে। আর আজানের জবাব দেওয়া প্রত্যেক মুসলমান ব্যক্তির দরকার।
---ঠিক আছে,
.
নিশাত তাই করলো। আজানের সাথে সাথে জবাব দিল তারপর দরুদ পড়লো।
নিশাত একটু পর আবার বললো,
---চৈতী তিথি কে?
.
চৈতী তাকালো নিশাতের দিকে। জানে তিথির কথা জিজ্ঞেস করবে নিশাত।
কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো চৈতী?
---এমনি।
তিথি কি তোমার ভাইয়ার প্রেমিকা!
---না,
তাহলে,
শুনবে।
---হুম, হুম,
আচ্ছা বলছি তাহলে, ভাইয়া যাকে ভালোবাসতো তার নাম মিষ্টি। সেদিন ছিল মিষ্টির বড় বোনের বিয়ের দিন। মিষ্টির বোনের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। রাতে বসে আড্ডা দিচ্ছিল ভাইয়া সবার সাথে তখন মিষ্টি আপি চলে আসে সেখানে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here