বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (নবম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 19, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (নবম পর্ব)

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (নবম পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।এ বৃষ্টি কখন থামবে কে জানে।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।ক্ষণিক বাদেই নিচে নেমে এলো মেয়েটা। মাজেদা বেগম মেয়ের পাশে দাঁড়াতেই একধরনের ঘোর কেঁটে যায় নিশাতের। পাশে তাকিয়ে দেখে মা দাড়িয়ে আছে।
কিছু বলবা আম্মু।
.
মাজেদা বেগম মেয়ের কথাটা শুনে ভালো করে তাকালো মেয়েটার দিকে। আজ কয় দিন ধরে কেমন মন মরা হয়ে আছে।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠলেন।
হ্যাঁ রে মা।
.
মায়ের এমন দেখে একটু আশ্চর্য হয়ে গেলেন। এমন করে তো কখন মা কথা বলে নাই।
আম্মু তোমার কিছু হয়েছে?
না রে মা। আমার কিছু হয় নাই। (মন মরা করে)
মন খারাপ তোমার,
---না,
.
মায়ের কথাটা শুনে বুকের মাঝে মোচন দিয়ে উঠলো।
কি হয়েছে একটু বলবা,
আর বলিস না, তোর বাবাকে আজ মেরে ফেলতে যদি বাড়িওয়ালার ছেলে না থাকতো, আল্লাহ তায়ালা বাড়িওয়ালার ছেলেকে উছিলা করে বাঁচিয়ে রেখেছে।
.
মায়ের কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায়।
আব্বুকে কে মেরে ফেলতো?
আজ সন্ধ্যার সময় টোকাই তোর বাবাকে ধরে বলে যা কিছু আছে সব দিয়ে দিতে। তুই তো জানিস তোর বাবা কেমন। সে দিতে অমত করে। ফলে খুর - ছুরি বের করে মেরে দিবে, তখন পাশ থেকে বাড়িওয়ালার ছেলে এসে টোকাইদের হাত থেকে খুর ছুরি কেড়ে নিয়ে তাদের মারে। তারপরে নাকি ছেলেগুলা দৌড়ে পালিয়ে যাই।
আব্বু এখন কোথায়?
ফোন দিয়ে বলে যে রাস্তায় আছে।
আমার ফোনটা বিছানায় আছে নিয়ে এসো তো,আচ্ছা আমি নিয়ে আসছি।
.
নিশাত চলে গেলো রুমে।
তারপরে আব্বুকে ফোন দেয়।
একবার ফোন রিং হয়ে কেটে গেলো।
কি রে ফোন ধরেছে?
না আম্মু। ফোন রিং হয়ে কেটে গেলো। আমি আবার ট্রাই করছি।
আমি খুব টেনশনে আছি,
কোন টেনশন করো না তো আম্মু। ফোন দিচ্ছি আবার।
.
আবার ফোন দেয় নিশাত তার বাবাকে।
একটু রিং হয়ে রিসিভ করে।
---হ্যালো,
আব্বু, তুমি কি ঠিক আছো, (কেঁদে দিয়ে)
আরে পাগলি কাঁদছিস কেনো, আমার কিচ্ছু হয় নাই। আল্লাহ তায়ালা " ফারহানের উছিলা করে বাঁচিয়ে রেখেছে।
তুমি কি সত্যি বলছো আব্বু?
হ্যা রে মা। আমি সত্যি বলছি। আমার কিছুই হয় নাই। তাই বলে কাঁদতে হবে পাগলি।
.
পাশে থাকা জাবেদা বেগমের ভেতর কেমন করে উঠে মেয়ের কাঁন্না দেখে।
নিশাত কি হয়েছে তোর আব্বুর? আর কাঁদছিস কেনো?
কিছুই হয় নি আম্মু। আব্বু ঠিক আছে,
মিথ্যে বলছিস নাতো,
না আম্মু,
না আমার মন মানছে না মা। দে আমি কথা বলবো একটু,
আচ্ছা দিচ্ছি, আব্বু আম্মু তোমার সাথে কথা বলবে।
---আচ্ছা দে,
এই নাও কথা বল,
.
নিশাতের মা ফোনটা নিয়ে কাঁন্না কন্ঠে বলে উঠলো,
---হ্যালো,
তুমি কি কাঁদছো এখনও?
না,
আরে বলেছি তো কিচ্ছু হয় নাই।
তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো।
আমি তাড়াতাড়ি আসছি,
.
ফোনটা নিশাতের কাছে দিয়ে দেয় নিশাতের মা। তারপরে আঁচল দিয়ে চোখটা মুছে মাজেদা বেগম রুমে চলে গেলো। নিশাতও মায়ের পিঁছু পিঁছু চলে গেলো।
.
.
ফারহান বাইক চালাচ্ছে। পিছনে আমজাত আলি বসে আছে।
ফারহান বুঝতে পারলো চোখটা মুঁছে ফেললো।
আংকেল, আন্টি কি কাঁন্না করছে এখনও।
হ্যাঁ বাবা। খুব টেনশনে আছে আমাকে নিয়ে।
আপনি কেনো বলতে গেলেন কথাটা।
আমি তো বলতে চাই নাই। আমার কন্ঠ শুনে তোমার আন্টি বুঝে ফেলেছে কিছু একটা হয়েছে। আমি বলি কিছু হয় নাই। কিন্তু, সে কাঁন্না করে দিল। তাই আর লুকাতে পারি নাই।
আন্টি কি একাই বাসায় আছে?
না বাবা। আমার মেয়েও আছে। আমি যে কথা বললাম। হয়তো তুমি শুনতে পাও নাই। নিশাত খুব ভালোবাসে আমায়।
.
ফারহান মনে মনে ভাবতে থাকে "নিশাত মানে? তাহলে কি সেই মেয়েটা? সেই মেয়েটা হলে তো দেখা হতো? আর আংকেলের মেয়েটা তো দেখি নাই। হতেও পারে।
---নিশাত,
তুমি নিশাতকে চেনো নাকি বাবা,
না তো আংকেল। তাকে তো কোনদিন দেখি নি।
ও, নাম বললে তাই আমি মনে করেছি তুমি চেনো।
না আংকেল, আচ্ছা আংকেল আব্বুর কাছে শুনেছি এই দিকে আপনার অফিস না। কিন্তু, এখানে কেনো এসেছিলেন?
আর বল না বাবা। এক কলিগের বাসায় জোর করে নিয়ে যায়। পরে সেখানে হালকা নাস্তা করে বের হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।
---ও,
আচ্ছা তুমি গাড়ি চালাও। না হলে কথা বলতে বলতে এক্সিডেন্ট হতে পারে।
.
ফারহান আর কোন কথা না বলে গাড়ি চালাচ্ছে,
.
আধঘন্টা পর বাসায় এসে পড়ে।
ফারহান ভেতরে আসো, চা খেয়ে যাও,
.
ফারহান মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো,
না আংকেল অন্যদিন এসে চা খেয়ে যাব।
অন্যদিন এসে খেয়ে যেও কিন্তু,
জ্বী আংকেল। (মৃধু হেসে)
.
আমজাত আলি সিঁড়ি দিয়ে উঠি চলে গেলো।
ফারহান গাড়ি রেখে রুমে চলে যায়।
.
.
আমজাত আলি রুমে বসে আছে। পাশে মাজেদা বেগম বসা। আর অপর পাশে নিশাত বসা।
আমজাত আলি সব কথা খুঁলে বলে।
আব্বু বাড়িওয়ালার ছেলে কে নিয়ে আসতে পার নাই।
না রে মা। ফারহানকে অনেক বলেছি। কিন্তু, ছেলেটা আসলো না।
.
ফারহান! কোন ফারহান? বাড়িওয়ালার ছেলে কি তাহলে সে? না না বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে বেটা খচ্চরের তুলনা করা ঠিক না।
আব্বু এক চা খেয়ে যেতে বললে ভালো হতো।
মারে আমি কি তাকে বলি নাই। সে আসবেই না। তারপরে বলেছি, অন্য দিন চা খেতে আসবে কিন্তু। পরে সিকার হয়।
আম্মু তুমি কাঁন্না কেনো করছো বলো তো। আল্লাহ তায়ালা " বিপদ থেকে মুক্ত করেছে। এটাই আল্লাহুর কাছে লাক্ষ লাক্ষ শুকুরিয়া।
তুই একটু বুঝা মা। বাসায় আসা মাত্র একদম পাগল হয়ে গিয়েছিল।
ঠিক আছে আব্বু। তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। খুব ক্ষুধা লেগেছে।
---আচ্ছা যাচ্ছি।
.
আমজাত আলি পোশাক চেন্জ করে ওয়াশরুমে চলে যায়।
মাজেদা বেগম এখনও ধ্যান ধরে বসে আছে।
আম্মু চল।
---হ্যাঁ চল,
দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিও।
.
নিশাত আর মাজেদা বেগম কথা বলতে বলতে টেবিলে চলে যায়।
.
এদিকে মিজান সাহেব খেতে বসেছে।
ফারহানের কথাটা শুনে মমতা রহমান ও মিজান সাহেব অবাক হয়ে যায়। চৈতী অবাক হয়ে যায় ভাইয়ার কথাটা শুনে।
মমতা রহমান বলে উঠলো,
কি বলিস এসব,
হ্যাঁ আম্মু। যা বলছি সব সত্যি।
মিজান সাহেব খেতে খেতে বলে উঠলেন,
কি দিনকাল এলো রে বাবা। এখন সন্ধ্যার সময় টোকাই ছিনতাই করে।
আব্বু টোকাইদের আবার সকাল, সন্ধ্যা, কিংবা রাত দেখার টাইম নাই। সুজুক পেলে কাজকর্ম করে ফেলে। সে যেই হোক।
তোর কথাটা শুনে একটা কথা মনে পড়ে গেলো ফারহান।
.
চৈতী মাঝখান থেকে বলে উঠলো,
কি কথা? তোমাকে কি টোকাই ধরেছিল কখন।
না রে মা। সেরকম কিছু ঘটনা না।
তাহলে।
কি ঘটনা তাহলে আব্বু? (ফারহান)
একদিন নিউ মার্কেট থেকে পশ্চিম পাশে একটা রাস্তা চলে গেছে। আমরা তো ছদ্মবেশে গিয়েছি। আমরা দারগা ও কনেস্টবল সহ ৮ জন ছিলাম । রাস্তার মোড়ে গাড়ি রেখে যাচ্ছি। ৫ জন আগে চলে যায়। আমি আর একটা কনেস্টবল আছি। বড় স্যারের সাথে ফোনে কথা বলছি। গাড়ি থেকে বেশি দূর হবে না। প্রায় ২০ হাত দূরে এসেছি। হঠাৎ করে ২ টা বাঁচ্চা আমার এক কনেস্টবলকে দেখে রাস্তার কাছে দাঁড়িয়ে যায়। আমি ফোনে কথা বলছি তাই পাঁশে আছি। কিন্তু একটু ফাঁকাফাঁকি। আমি ছেলে দুইটার কর্মকান্ড দেখছি আর স্যারের সাথে কথা বলছি। ছেলেটা চিনতে পারে নাই এইগুলি পুলিশ। পরে, একজন ছুরি ও একজন খুর বের করে বলে যা আছে বের করে দে। না হলে এই তোর ভুড়িতে মেরে দেব। কনেস্টবল আমার দিকে তাকালো একবার। আমি বুঝতে পারলাম। পরে স্যারকে বললাম, একটু পরে কথা বলি স্যার। পরে ফোন রেখে এগিয়ে গেলাম। ছেলে দুইটা একটু ভয় খেলো। পরে গিয়ে বললাম, বাবারা কি হয়ছে? ওনারে যেতে দিচ্ছো না কেনো, "তখন ছেলেটা বলে উঠলো,
আমনে কিডা? আর ওনারে ছারতে কন ক্যা?
তোমরা কি চাও বল?
.
পরে কথাটা শুনে একটা ছেলে আমার কাছে এসে ছুরি দেখিয়ে বলে,
আপনার কাছে যাহাই আছে বাহির করেন। না হলে এই ছুরিটা ভুড়ির ভেতর ঢুকাইয়া দিমু,
আচ্ছা, রতন সাহেব আপনার যা যা আছে দিয়া দেন।
.
আমার কথা শুনে রতন সাহেব কেমন জেনো হয়ে গেলো। পরে ঘড়ি, একটা পুরানো ফোন, আর ম্যানিব্যাগ দিয়ে দেয়।
তখন আমার পাশে থাকা ছেলেটা বলে উঠলো,
আপনারটা টাও দিয়া দিন।
আমার কিছু নাই, শুধু ফোন আছে নিবে।
হ তাই নিমু, দেন ফোনটা।
.
পরে ফোনটা দেওয়ার সময় ছুরি অন্য হাতে নেয়। তখন থপ করে ছেলেটাকে ধরে ফেলি। আমার দেখা দেখি রতন সাহেব ওই ছেলেকে ধরে ফেলে।
আপনারা কিডা,
.
রতন সাহেব বলে উঠলো,
---পুলিশ,
.
কথাটা শুনে ছেলে দুইটার ছানা বড় বড় হয়ে গেলো। মুখ শুকিয়ে গেলো। ভয় খেয়ে যায় প্রচন্ড ।
তখন দুইজন পা ধরে বলে,
স্যার আমাগো মাইরেন না। আপনের পায়ে পরি। আমরা চিনতে হারি নাই। আমাগো ভুল হয়ছে। আমারে ছাইরা দেন স্যার।
---তোদের গডফাদার কে?
অন্য ছেলেটা বলে উঠলো,
স্যার আমাগো কোন গডফাদার নাইক্যা,
তাহলে তো তোদের থানায় নিতে হবে।
স্যার সত্যি কইতাচি, আমাগো কোন গডফাদার নাইক্যা,কসম কইরা কইতাচি।
তাহলে বল কতদিন ধরে এই ব্যবসা করছিস?
২ মাস হলো,
তুই,,,
স্যার আমি ৩ মাস ধইরা,
তাহলে তুই বল, তোদের গডফাদার কে?
হত্যি কইতাচি স্যার, আমাগো কোন গডফাদার নাইক্যা,
তাহলে বল, কেনো এই কাজ করছিস?
স্যার, আমার মাইয়ের হার্টের অসুখ, তাই এই কাম কইরা বেরাই,
থাপ্পড় চিনিস। একটা কানের নিচে মেরে কান ফাঁটিয়ে দেব। লজ্জা করে না, এসব করতে।
.
পাশে থেকে একজন বলে উঠলো,
স্যার কেন লজ্জা করবো, কত বাসায় বাসায় আমরা দুই ভাই কামের লাইগা ঘুরচি। কেউ দেই নাই। পরে একদিন এক টোকাইকে দেখে আমরা এই কাজটা করি।
.
রতন সাহেব বলে উঠলো,
স্যার শুনছেন ছেলেগুলির কথা। এরকম করে তো একদিন সন্ত্রাস হয়। আজ এই কাজ, কাল ওই কাজ করে একদিন সন্ত্রাস হয়ে যাবে ।
হুমম ঠিক বলেছো, ওদের থানায় নিয়ে গিয়ে আচ্ছামত ধোলাই দিলে ঠিক হইবো।
স্যার ওর মায়ের বলে হৃদরোগ। ছেড়ে দেনগা স্যার।
কি বল এসব।
ওদের মুখ দেখে খুব মায়া লাগছে। মনে হচ্ছে ওরা সত্যি বলছে।
আচ্ছা তুমি যেহুতো বলছো ছেড়ে দিব। কিন্তু, ভয় দেখিয়ে। পরবর্তী জেনো এই কাজ না করে।
---হুম স্যার,
ওই তোদের বাড়ি কোথায়?
ক্যান স্যার,
তোদের বাড়ি যাব আমরা।
.
ছেলেগুলি চুপ হয়ে গেলো ।
কি রে চুপ হয়ে গেলি কেনো। বল বাড়ি কোথায়?
স্যার, সামনের বস্তিতে।
বল তোদের ছেড়ে দেব নাকি থানায় নিয়ে আচ্ছা মত ধোলাই দেব।
,
কথাটা শুনে এবার কেঁদে দিল দুজন।
স্যার আমাগো ছাইরা দেন।
একটা সর্তে ছাড়ব।
কি সর্ত স্যার,
যদি আজ থেকে তোরা এই ব্যবসা ছেড়ে দিস।
হ স্যার ছাইরা দিমু যান, কতা দিতাছি,
সত্যি, নাকি ভয়ে ভয়ে বলছিস।
না স্যার হত্যি কইতাচি,
এই নি ১০০০ টাকা। কালকে টাকাটা দিয়ে ম্যাগাজিন পেপারে কিনে বিক্রি করবি। আর যে টাকা বাঁচবে, সেই টাকা দিয়া তোর মায়ের জন্য ঔষুধ কিনে নিয়ে যাবি। আর এই দিলাম ৫০ টাকা। এইটা দিয়া কিছু কিনে খাবি।
স্যার একটা সত্যি কথা কমু,
তাহলে এতক্ষণ মিথ্যে কথা বলছিলি।
---হ স্যার, আমাগো মা মইরা গেছে। আব্বা বিয়া করতে আবার। সেই সৎমা দেখতে পারে না। ঠিকমত খাইতে দেইনা। পরে আমরা দুইভাই এই কাম করি এখন,
.
কথাটা বলে কাঁদতে লাগে। তখন মায়া লেগে যায়। পরে সব টাকা দিয়ে বললাম,
---সব টাকা দিয়ে ম্যাগাজিন পেপারে বিক্রি করবি। আর ৫০ টাকা দিয়ে খাবি দুজনে। যদি কোন টাকার প্রয়জোন হয়। আমার কাছে আসবি। তবুও এই কাজ করিস না।
---ঠিক আচে স্যার,
.
পরে টাকা দিয়ে দিলাম। ছেলেগুলি সত্যি কেঁদে দিয়ে পা ধরে ক্ষমা চায়। পরে ছেড়ে দিলাম।
ওদের তো বেশি দোষ নেই। একজন মা পারে সন্তানকে লালনপালন করতে। সুশিক্ষিত করতে। আদর্শবান করতে। ওদের মা বেঁচে থাকলে এমন হতো না।
.
ফারহান বাবার কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায়।
আব্বু ওরা কি সত্যি, সত্যি ভালো হয়ে যায়। নাকি, তোমাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এমন করেছে।
না রে বাবা। সত্যি, সত্যি, আল্লাহ্ তায়ালা ওদের ভালো করেছে। ৩ বছর পর একদিন দেখা হয়ে ছিল। পরে ছালাম করে। অনেক কিছু বলে। আমি প্রথমে চিনতাম না। পরে সেদিনের ঘটনা বললো। তখন চিনতে পারলাম। পরে বলে, যদি, সেদিন এমন করে মায়া না দেখাতেন। তাহলে আমরা ভালো হয়ে যেতাম না। আল্লাহ তায়ালা " আপনাদের উছিলায় খারাপ পথ থেকে ফিরিয়ে এনেছে।
যাক তাহলে ভালো হয়ে গেছে। এটাই আল্লাহর কাছে লাক্ষও কোটির শুকুরিয়া। জীবনে ভালো কাজ না করতে পারলে একটা করেছো।
.
কথাটা শুনে মমতা রহমান বলে উঠলো,
আরও অনেক ঘটনা আছে। যা শুনলে অবাক হবি তোরা।
তাহলে আব্বু বল শুনবো(চৈতী)
এখন খাও পরে বলবো।
---ঠিক আছে আব্বু,
.
খেয়ে যার যার রুমে চলে যায় সবাই।
ফারহান নিজেকে গর্ব করে মনে মনে বলে, একজন আদর্শ বাবা পেয়েছি আমি। তোমাকে সেলেট করলাম আব্বু।
তারপরে একসময় ঘুুমিয়ে যায় ফারহান।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here