বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (অষ্টম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 19, 2019

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (অষ্টম পর্ব)

বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রেম (অষ্টম পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
সকাল ৯টা। কাঁথাটা গায়ে চড়িয়ে, ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাচ্ছি। ক্লান্ত চোখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকালাম।
.
আম্মু ফোন দিয়েছে ! ফোনটা রিসিভ করে কানে নিলাম।
---হ্যালো,
কি রে এখনও ঘুুমিয়ে আছিস!
না আম্মু।
থাক আর মিথ্যে বলতে হবে না। তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নি। পরে ফোন দিব।
---ঠিক আছে আম্মু,
.
তুত তুত করে ফোনটা কেটে গেলো।
নিশাত ঘুুমিয়ে ছিল এতক্ষণ। সকালে একবার রেখা বেগম (নিশাতের বড়আম্মু) ডেকে ছিল। কিন্তু, নিশাত উঠে নাই। তাই আর চেষ্টা না করে চলে যায়। কারণ, যখন নিশাত ঘুম পাড়বে যেদিন। সেদিন তার ইচ্ছে মত ছাড়া ঘুম থেকে উঠবে না।
যাক এবার তাহলে উঠে ফ্রেশ হয়ে খেতে হবে। একবার ফোনের স্ক্রিনে ঘড়ির টাইম দেখে ছিল। ঘড়ির কাটা তখন ৯:৫১ মিনিট। বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে চলে গেলো নিশাত।
.
.
ফারহান সোফায় অর্ধশুয়ে বই পড়ছে। পাশে মমতা রহমান বসে আছে চৈতীকে মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে।
মিজান সাহেব বাসায় নেই।
মমতা রহমান বলে উঠলো,
---ফারহান,
.
ফারহান পাশে ছিল বলে মায়ের ডাকের সাথে সাথে মায়ের দিকে তাকালো বই রেখে। তারপর বলে উঠলো,
জ্বী আম্মু,কিছু বলবা?
হুম। আমার প্রেসারের ঔষুধ শেষ হয়ে গেছে।
আচ্ছা আমি রাতে এনে দিব।
.
পাশ থেকে চৈতী বলে উঠলো,
ভাইয়া আমার জন্য ক্যাটবেরী, চিপস্ আনিস।
তুই কি এখনও ছোট আছিস।
আম্মু তুমি বল আমি কি বড় হয়েগেছি।
এমনি বলে,
না না ভাইয়া আমাকে সত্যি সত্যি বলেছে। ওই দেখছো মুচকি মুচকি হাসতেছে।
আচ্ছা ফারহান এনে দিস।
আমি কোন বুড়িকে এগুলি এনে দিব না।
দেখছো আম্মু আমাকে বুড়ি বললো আবার, (বাঁচ্চা মেয়েদের মত)
বুড়ি বললে কি হয়।
---তুই তো বুড়ি,
তুই বুড়ি, ধ্যাত, তোর বউ বুড়ি হবে দোয়া করলাম, আবার হাসোস তুই, আম্মু আমার কিন্তু রাগ উঠে গেছে।
.
ফারহান আর কিছু বলছে না। কিছু বললে পিঠের উপর সোফার ফোম দিয়ে বাড়ি দিবে। রেগে গেছে চৈতী। বুড়ি বললে রেগে যাবে চৈতী। তাই ফারহান মাঝে মাঝে বুড়ি বলে রাগায়।
হয়ছে, হয়ছে আর রাগাতে হবে না। আর তুইও বুড়ি বললে রেগে যাওয়ার কিছু আছে,
বলবে কেনো। আমি কি বুড়ি,
হ তুই ৮০ বছরের বুড়ি, বুড়ি,
,
কথাটা বলে ফারহান দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। না হলে ফারহানের অবস্থা ভয়াবহ করে দিবে কিল,ঘুসি মেরে। তাই সেই ভয়ে দৌড়ে পালায় ফারহান।
তোর বউ ৮০ বছরের বুড়ি, পালাস ক্রে তুই। সাহস থাকলে সামনে এসে বুড়ি বল।
.
ফারহান জানালা দিয়ে বলে উঠলো,
কি করবি বুড়ি তুই আমার,
তুই বাইরে এসে বল ভিতুর ডিম।
---বুড়ি,
.
চৈতী তেলের বোতল দিয়ে জানালার দিকে ঢেল ছুঁড়ে। ততক্ষণে ফারহান জানালা বন্ধ করে দেয়।
.
.
ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।এ বৃষ্টি কখন থামবে কে জানে।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।ক্ষণিক বাদেই নিচে নেমে এলো ফারহান।
মেয়েটা আশেপাশে থাকলেই একধরনের সুবাস পাওয়া যায়।চন্দ্রগ্রস্থ রাতে হাসনাহেনার তীব্র নেশা ধরানো সুবাস।এটা সত্যি নাকি মিথ্যা জানেনা নিশাত।
আজকের ওয়েদারটা খুব সুন্দর না?
জী?আমাকে বলছেন?
আপনি ছাড়া কেউ আছে নাকি এখানে?
ফারহান অনুভব করছে হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দনটা বেড়ে গেছে।তবু নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল তা অবশ্য ঠিক।হ্যাঁ খুব সুন্দর লাগছে ওয়েদারটা।
আপনার বৃষ্টি ভালো লাগে?
অতটা খারাপ ও লাগে না।
বৃষ্টিতে ভিজেছেন কখনো?
---না।
ওমা!সেকি!বৃষ্টিতে ভিজেননি কখনো?ফুটবল খেলেননি কখনো বৃষ্টিতে?
না।খেলিনি।
আচ্ছা আপনি এরকম গাব গাছ কেন?আমিই বক বক করছি।
আসলে কি বলব বুঝতে পারছিনা।
লাইব্রেরীতে যেয়ে যখন বসে থাকেন?কিংবা ক্যাম্পাসে যখন আমাকে দেখে থমকে দাঁড়ান?তখন বলতে ইচ্ছা করে কিছু?
না মানে!
শুনুন আমি আপনার মত গাধা না।একটা মেয়ে ঠিক বুঝতে পারে তার চারপাশে কি হচ্ছে।তবু তাকে চুপ করে থাকতে হয়।সব বিষয় নিয়ে মাতামাতি করার স্বাধীনতা একটা মেয়েকে দেয়া হয়নি।
তুমি খুব গুছিয়ে কথা বল।
তুমি?আপনি থেকে তুমি হয়ে গেলো?
ও সরি।কিছু মনে করবেন না।
সরি বলতে হবে না।সন্ধ্যা হয়ে গেছে প্রায়।বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই কোনো।আমার বাসায় যাওয়াটা বেশ দরকার এখন।দেরী হলে সমস্যায় পড়তে হবে।একটা রিক্সা ঠিক করে দিনতো।
এখানে তো রিক্সা নেই।
রিক্সা নেই তা আমিও দেখতে পাচ্ছি।সে জন্যই আপনাকে বলছি।
আমি ছাতা আনিনি।
আপনাকে বৃষ্টিতে ভিজেই যেতে বলছি।যাবেন নাকি গাবগাছের মত দাঁড়িয়ে থাকবেন?
আচ্ছা যাচ্ছি।
.
বৃষ্টিতে ভিজেই মেয়েটাকে রিক্সা ঠিক করে দিলো ফারহান।অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে ওর মাঝে।রিক্সা চলতে শুরু করেছে।রিক্সার চাকার গতিতে পিচঢালা পথে বৃষ্টির পানি ছিটকে পড়ছে।রাহাত তাকিয়ে আছে সেদিকে।একটু যেতেই রিক্সা থামিয়ে পেছন ফিরে তাকালো মেয়েটা।"আর বৃষ্টিতে ভিজে কাজ নেই।
হঠাৎই ঘুমের মাঝে ধাক্কা খেয়ে উঠে নিশাত। ইস কত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখতেছিলাম। আর ধাক্কা দিয়ে দিল স্বপ্নের ১২ টা বাজিয়ে।
কি হয়েছে বড়আম্মু? এভাবে ধাক্কা দিচ্ছো কেনো?
তোর ফোন বাজে কখন থেকে,
---কই,
এই মাত্র বেজে কেটে গেল।
তাই এভাবে ঘুমটা ভেংগে দিলে ধাক্কা দিয়ে।
কেনো?
ইস কত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখতেছিলাম,
.
কথাটা বলে জিব্বাহ্ কামড় দেয় নিশাত।
কি স্বপ্ন দেখছিলেন এই রাত ৮টার সময়?
কই নাতো,
এই মাত্র তো বললেন ম্যাডাম।
বড়আম্মু মুখ ফোঁসকে বের হয়ে গেছে।
আচ্ছা ম্যাডাম, রাজকুমারটা কে ছিল?
বড়আম্মু,
হ্যাঁ! আমি তো বড়আম্মু।
সব শুনতে হয় না বুঝলা।
তা রাজকুমারটা কে সেটা কি শোনা যাবে না রাজকুমারী!
---না, সেটা শুনে তুমি কি করবা শুনি।
দেখতাম যে আমার রাজকুমারীর সাথে কে স্বপ্নে আসে। (মুচকি হেসে)
---ধ্যাত তুমি না।
.
কিচিনে থেকে রহিজ আলি "রেখা বলে ডাক দিল।
তখন রেখা বেগম বলে উঠলো,
---আসতেছি,
.
কথাটা বলে রেখা বেগম চলে যেতে লাগলেন ।
কি মনে করে দরজার কাছ থেকে ফিরে এসে বললেন,
ওহ্! তোর মাথা ব্যথা কমেছে।
হুমম বড়আম্মু।
আচ্ছা এখন আর ঘুমাতে হবেনা। উঠে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে টেবিলে চলে আয়। রান্না শেষ হয়ে যাবে ২-৩ মিনিটের মধ্যে।
.
কথাটা বলে রেখা বেগম চলে গেলো।
নিশাত বিছানায় বসে আছে। তিন দিন হলো বড়আম্মুর বাড়িতে এসেছে। কিন্তু, তিন ধরে কোন না কোন স্বপ্ন দেখেছে। সেটা আবার ওই ছেলেকে নিয়ে।
নিশাত মনে মনে ভাবতে থাকে "ওই ছেলের সাথে স্বপ্নের ছেলেটার সাথে কোন মিল নেই। আহ্! ছেলেটা কত সুন্দর। কথা বলার সময় কত সুন্দর করে কথা বলে। যে কেউ তার প্রেমে পড়ে যাবে। আর ওই ছেলে একটা খচ্চর বেটা। আমাকে সহ্য করতে পারে না।
সে কেনো আমার স্বপ্নঘরে আসে। নাকি এই তিন দিনে তার প্রেমে পড়েছি। দুর- আমি এসব কি ভাবছি।
কথাটা বলে মাথায় হাত দিয়ে থাপ্পড় দেয় নিশাত।
কিন্তু, আমি কি তার প্রেমে পড়ে গেছি? দুর, এভাবে কি প্রেম হয়? সিনেমাতে তো অন্যরকম ভাবে প্রেম হয়।
না, না এটা হতে পারে না। ছেলেটা আমাকে পাগল করে দিয়েছে। আমি পারছিনা কেনো তাকে ভুলতে! সে কি আমাকে মিস করেছে এই তিন দিনে? দুর, আমাকে কেনো সে মিস করবে!
আমি কি তাকে এই তিনদিনে ভালোবেসে ফেলেছি? কেনো এসব ভাবছি আমি। সেটাই তো বুঝতে পারছিনা। ভালোবাসা কি তাহলে এভাবে হয়? সেটাও জানি না।
আমি কেনো এসব ভাবছি। কখন না সে আমাকে ভালোবাসবে। কিন্তু, চৈতী তার কে হয়? কাল বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করবো। না, না, এসব জিজ্ঞেস করা যাবে না। সে কি ভাববে। আমি পারবো না।
আচ্ছা, এটা কি ভালোবাসা? নাকি ভালো লাগা! হতে পারে ভালো লাগা। যেরকম সবার আমার প্রতি ভালো লাগা ছিল।
দুর কিসব ভাবছি আমি!
কথাটা বলে আবার নিশাত মাথায় হাত দিয়ে থাপ্পড় দিয়ে হেসে উঠে।
অন্যরুম থেকে শব্দ এসে নিশাতের এলোমেলো ভাবনায় ছেদ পড়লো,
কি রে নিশাত তোর কি হলো! না এখনও ফ্রেশ হচ্ছিস!
নিশাত তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে উঠলো,,
---এই তো হচ্ছি, আর একটু ওয়েট কর,
কথাটা বলে দৌড়ে চলে গেলো ওয়াশ রুমে,
.
.
রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে | মানুষজন তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা রিক্সার এদিক ওদিক ছুটে চলা | পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিক্সায় সবকিছুর ছায়া পড়ছে | জোছনা দিয়ে গড়া একেকটা ছায়া | আকাশে যে আজ বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা ! সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে ফারহান।
ফারহানের এক হাতে ওষুধ আর অন্য হাতে চিপস্ আর ক্যাটবেরী চকোলেট,
সেগুলি নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে ফারহান।
মাঝে মাঝে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে ফারহান। কাকে যেনো খুঁজে বেড়াচ্ছে ফারহান। কিন্তু, কোথাও তার দেখা মেলছে না।
হ্যা এই দুই দিন ধরে মিস করেছে মেয়েটাকে। খুব মিস করেছে। কালতো সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে ছিল তিন রাস্তার মোড়ে। যদি দেখা হয় তাহলে কোন কথা না বলে ডাইরেক্ট স্যরি বলে কেটে পড়বে।
স্যরি না বলা পর্যন্ত ঘুমাতে পাড়ছেনা ফারহান । মেয়েটার চোখের অশ্রু ফারহানের চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
দুইদিন নিজের সাথে বুঝে দেখেছে মেয়েটার কোন দোষ নেই। সব দোষ ফারহানের। আর যাই হোক স্যরি বলে তার সামনে আর কখনও আসবো না।
কথাগুলি মনে মনে বলতে বলতে কারও সাথে ধাক্কা খেয়ে ল্যাম্পপোস্টের সাথে কপালে ব্যথা পায়।
ভালো করে তাকিয়ে দেখে একটা লোক তার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে আছে।
দেখে তো ভদ্রলোক মনে হচ্ছে। স্যুট, প্যান্ট, কোট টাই পড়া। কিন্তু, ভদ্রলোকটা এই রাতে এভাবে ফুঁটপাতের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কেনো,,,?
বুঝতে না পেরে ফারহান চিপস্ আর ক্যাটবেরী চকোলেট মাটি থেকে কুঁড়িয়ে নেয়।
তারপর ভদ্রভাবে ভদ্রলোকটাকে ফারহান স্যরি বলে দেয়।
ভদ্রলোকটা ফারহানের কথাটা শুনে তিনগুণ রেগে গিয়ে বলে উঠে,
এই ছেলে রাস্তায় হেঁটে চলছে নাকি আঁকাশে হেঁটে চলছো! চোখে দেখ না। রাস্তায় কি ঘুম পাড়ছো নাকি হাঁটছে,
জ্বী, আপনি কি ঘুম পাড়েন আর হাঁটেন, (ফিসফিস করে)
এই ছেলে কি বললে তুমি?
কিছু না আংকেল।
মিথ্যে বল কেনো। নিশ্চয় কিছু বলেছো আমাকে!
না মানে, ওই আর কি,
.
কথাটা বলে পাঁশ কাঁটিয়ে চলে এলাম। আসার সময় শুনতে পেলাম"" এখন কার ছেলেরা একদম বেয়াদব। কার সাথে কি রকম কথা বলতে হয় সেটাও জানে না। ইডিয়েট কথাকার।
পিছন ফিরে একবার তাকালাম। দেখি লোকটা খুব দ্রুত হেঁটে চলে যাচ্ছে । মনে হচ্ছে বাসায় যেতে হবে তাড়াতাড়ি। লোকটা কেমন জানি বেশি কথা বলে। কপালে ব্যথা করছে।
আমি আর কিছু না ভেবে দ্রুত হাঁটা দিলাম বাড়ির পথে।
.
.
আজ নিশাতের বাবা আমজাত আলি নিশাতকে নেওয়ার জন্য এসেছে।
রাতে ফোন করে নিশাতের মা নিশাতের বড়আম্মুর কাছে। রাতে কথা বলে ফোন রেখে দেয়।
তখন থেকে রেখা বেগমের মন খারাপ। তিনদিন নিশাত ছিল তারকাছে। খুব ভালো লেগেছে তার। একদম নিজের মেয়ের মত।
সকাল সকাল তাই আমজাত আলি চলে আসে বড় ভাইয়ের বাসায়।
নিশাত রেডি হয়ে বের হয় বাসায় যাওয়ার জন্য। আজ মনটা ব্যাকুল হয়ে গেছে।
নিশাত ব্যাগ গোছাচ্ছে আর পাশে রেখা বেগম মন খারাপ করে বসে আছে। চোখের কোণে এক চিলতে অশ্রু। হয়তো সন্তান নেই বলে অনেক কাঁদে মনে মনে। আল্লাহ তায়ালা তাকে সন্তান দান করে নাই। সব আল্লাহর ইচ্ছা।
তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে সন্তান দিতে পারে। আবার যাকে ইচ্ছা তাকে সন্তান নাও দিতে পারে।
তবুও রেখা বেগম কখন আল্লাহকে কিছু বলে না। সে বিশ্বাস করে "আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসে। আর এইটা তার পরীক্ষা।
রেখা বেগম নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে শুকুরিয়া করে।
.
প্রায় ব্যাগ গোছানো শেষ তখন নিশাত একবার রেখা বেগমের দিকে তাকালো। দেখে যে রেখা বেগম আঁচল দিয়ে চোখের অশ্রুটুকু মুঁছে ফেললো।
আম্মু মন খারাপ কেনো করছো, আমি তো আবার আসবো, তুমি প্লিজ কেঁদো না।
.
রেখা বেগম কোন কথা বললো না। তার যে ভেতর থেকে কোন কথা বের হচ্ছে না।
আম্মু প্লিজ, তাহলে আর কোন দিন কথাও বলবো না আর আসবো না কোন দিন। (ব্যাগ গোছানো বাদ দিয়ে)
দুর পাগলি। এসব বলতে নাই। (বিষাধকন্ঠে)
আম্মু তুমি চল আমাদের সাথে।
না রে মা তোর আংকেলের একা একা অনেক কষ্ট হবে। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতে পারবে না।
আমাদের ওখান থেকে পৌরসভায় যেতে পারবে।
না রে মা। সেটা সম্ভবনা।
তাহলে কবে যাবে বল।
যাব একদিন।
---সত্যি।
---হুম।
.
ডায়নিং রুমে থেকে রহিজ আলি বলে উঠলো,
এই নিশাত, তোর হল মা।
এইতো আংকেল হয়েগেছে।
.
নিশাত আর রেখা বেগম রুম থেকে বের হলেন। রেখা বেগমের চোখে অশ্রুর কোণা।
আংকেল আম্মুকে নিয়ে সামনে সপ্তাহে আমাদের নতুন বাসায় ঘুরে এসো।
ঠিক আছে মা নিয়ে যাব।
আম্মু ভালো থেকো। (চোখটা মুঁছে)
তুইও ভালো থাকিস মা।
.
আমজাত আলি বড়ভাইকে আর ভাবিকে বলে রওনা দিল।
রেখা বেগম নিশাতকে বিদায়। যতক্ষণ নিশাতদের গাড়ি দেখা যাচ্ছে ততক্ষণ চাঁতক পাখির মত তাকিয়ে ছিল।
তারপরে দৌড়ে রেখা বেগম রুমে চলে যায়।
সেটা দেখে রহিজ আলি রেখা বেগমের পিঁছু পিঁছু চলে আসে।
জানে আজ খুব কাঁদবে খুব।
.
রহিজ আলির বুকে মাথা গুঁজে অঝরে কেঁদে যাচ্ছে রেখা বেগম। রহিজ আলি মাথায় হাঁত বুলিয়ে দিচ্ছে। কিছু বলছে না। কি বলবে কিছু বলার নেই তার।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here