পুলিশীনি (সপ্তম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 26, 2019

পুলিশীনি (সপ্তম পর্ব)

পুলিশীনি (সপ্তম পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
রেহান বারান্দার দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, কখন
তারা আসবে। সময়টা যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না। মনটা কেমন জানি ব্যাকুল হয়ে আছে! নানুর কথাটা শুনে মনের ভেতর কেমন জানি মোচন দিয়ে উঠে। সারাদিন ঘুমের মধ্যে কেটে। রাতের খাবারটা খেতে বসেছি তখন নানু বলে উঠে,
তানভী,
জ্বী নানু বলো!
তুমি কবে যাচ্ছো আমাদের বাসায়?
ভার্সিটি এখন খোলা। সামনের মাসে কিছুদিন ছুটি আছে তখন যাব।
ওমা বলো কি। মজা নিচ্ছ তাইনা নানু ভাইয়া!
.
নানুর দিকে একটু ভালো করে তাকিয়ে বলি,
মজা না সত্যি।
তুমি কি তারিনের (তানভীর খালাতো বোন) উপর রেগে আছো? ওর সাথে নিশ্চয় ঝগড়া লেগেছে তাইনা।
.
তানভী প্লেট থেকে মাথা তুলে রুবাইয়ার দিকে তাকালো (তানভীর নানি)। তার কথা আগাগোড়া কিছুই বুঝতে পারছেনা।
না নানু। ওর সাথে যোগাযোগ নেই বেশ কদিন হলো।
.
রুবাইয়া তানভীদের দিকে প্রশ্নচোখা রেখার দৃষ্টিতে তাকালো।
বেশ কদিন মানে!
.
সবিতা বেগম মাঝখানে বলে উঠে,
মা! বাদ দাও ওসব কথা। তানভী শোন, তোর নানু এসেছে তারিনের বিয়ের দাওয়াত দিতে। সামনে শুক্রবারে বিয়ে। তোকে তোর খালা দুদিন আগেই যেতে বলেছে।
.
সবিতার কথাটা শুনে তানভী অবাক হয়ে যায়। মনে মনে বলে উঠে, "এটা কি করে সম্ভব! আর এতো দ্রুত বিয়ে। আর বিয়ের কথা, একটা বার বলার উচিত ছিল ওর। ওকে কি জোর করে বিয়ে দিচ্ছে? ওর কি এই বিয়েতে মত আছে? নাকি ফ্যামিলির পিরা পিরিতে বাধ্য হয়েছে বিয়ে করতে? এতো গুলো প্রশ্ন মাথায় নাড়া দিয়ে উঠে। সবিতার কথায় ভাবনায় ছেদ পরে।
কিরে ভাত না খেয়ে প্লেটে হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করছিস কেনো? কিছু হয়েছে?
ওই কিছুনা।
তাহলে খা। খাবার সামনে নিয়ে বসে থাকতে নেই।
.
খেতে মন চাইছিলনা। জোর করে অল্পখানি খেয়ে এটো করে উঠে আসি। মনের ভেতর নানারকম প্রশ্ন উুঁকি মারছে শুধু।
তারিন তো একটাবার ফোন দিতে পারতো। আর দেবে কেনো? কোন মুখ নিয়ে ফোন দেবে! যাহোক সব কিছু ভুলে তো একবার ফোন দিতে পারতো! খুব অভিমান! বড্ড অভিমান করেছে মেয়েটা!

না না মেয়েটাকে আমারি ফোন দিয়ে সব শুনতে হবে। তানভী রুমে গিয়ে ফোনটা নিয়ে এসে বারান্দায় একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলো। চেয়ারে বসে ভাবতে লাগলো, এতো রাতে ফোন দেওয়া কি ঠিক হবে? এমন না যে, আমি প্রেম করার জন্য ফোন দিচ্ছি। সাতপাঁচ চৌদ্দ ভেবে ফোন করে বসলো তানভী। কিন্তু কম্পিউটার থেকে বলছে "দুঃখিত। কয়েকবার ট্রাই করে ফোন দেবার। কিন্তু, বরাবরের মত কম্পিউটার থেকে বলে যাচ্ছে "দুঃখিত। আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটি- - - - - - - - '

কিছুক্ষণ চিন্তা করে তানভী খালার নাম্বার বের করে ফোন দেয়। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর রিসিভ করে। উপর পাশে থেকে চিকন কন্ঠসর ভেসে আসে,
হ্যালো!
খালাম্মা!
জ্বী! খালাম্মা কে? আর আপনি কে?
.
তানভী কান থেকে ফোনটা চোখের সামনে মেলে ধরে। নাম্বার তো ঠিকি-ই আছে! তাহলে কে রিসিভ করেছে? তারিনের কন্ঠসর তো এমন না! কে তাহলে? ফোনের উপর প্রান্তে থেকে হ্যালো, হ্যালো বলে যাচ্ছে।
হ্যালো।
আপনি কে? আর ফোনটা তো আপনার না?
জ্বী হ্যা! ফোনটা আমার না! আর আপনি কে, যে এতো রাতে ফোন দিয়েছেন?
আমি তানভী। এটা কি রুবা খালাম্মার ফোন না?
হুউমম! আপনি ওনার কে হোন?
.
তানভী বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। পিচ্চি মেয়ে মনে হয়। বললো যে, এটা খালাম্মার ফোন না। তবুও আবার জিজ্ঞেস করছে। ফোনের উপর প্রান্তে থেকে ভেসে এলো,
কি হলো কথা বলছেন না কেনো? কে আপনি?
যার ফোন তুমি তাকে ফোনটা দাও আর বলো, তানভী নামে কেউ ফোন দিয়েছে।
.
মেয়েটা ফোন কানে নিয়ে বোধহয় জোরে চিৎকার দিয়ে বলছে, "মামি! কে যেনো ফোন দিয়েছে। রুবা বেগম ফোনটা হাতে নিয়ে বললো,
হ্যালো! কে বলছেন?
জ্বী খালাম্মা! আমি তানভী,
তানভী!
জ্বী! এটা নতুন সিম। গত এক মাস হলো কিনেছি।
কেমন আছো? আর তোমার আব্বু-আম্মু কেমন আছে?
আলহামদুলিল্লাহ্। আল্লাহর রহমতে ভালো আছে। আপনারা কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো। তা আজ হঠাৎ কি মনে করে ফোন দিলে?
হঠাৎ মানে খালাম্মা।
হঠাৎ মানে, আগে কতবার ফোন দিতা। এখন তো দাওনা অনেক দিন হলো। ভুলেই গেছো। খালাম্মার কথা কি মনে আছে। (অভিমানি কন্ঠে)
আসলে খালাম্মা। ভার্সিটি, পড়াশোনা সব মিলিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে থেকে কাউকে ফোন দেওয়া হয়নি।
আচ্ছা বাদ দাও ওসব কথা। কবে আসছো তুমি?
আম্মু আব্বুর সাথে।
তোমার নানু কিছু বলেনি। সায়েম একলা সব দিক সামলাতে পারবেনা। তাই বলি কি, তুমি কাল-ই চলে আসো।
এখনও বিয়ে ৫ দিন বাকি আছে।
দেখ তানভী। ৫ দিন কখন কেটে যাবে বুঝতে পারবেনা। তাই তুমি কাল-ই চলে আসলে ভালো হয়।
জ্বী আচ্ছা।
ও হ্যা! কি জন্য ফোন দিয়েছো তা তো শোনা হলো না। বলো কি জন্য ফোন করেছো?
না মানে, তারিনের ফোনে ফোন করছি কিন্তু ফোন ঢুকছে না। বার বার দুঃখিত বলছে।
আর বলো না বাবা। তারিনের ফোন হারিয়ে গেছে ১ মাস হলো।
.
খালাম্মার কথাটা শুনে নিজেকে অপরাধী ভাবলো। কত কি না ভেবেছে!
যদি কিছু মনে না করেন তারিনকে একটু ফোন দিবেন।
আহা! কি মনে করবো।
একটু তাড়াতাড়ি দিন।
তুমি একটু লাইনে থাকো, আমি দিচ্ছি।
.
ফোনটা কানে ধরে রাখে তানভী। অপর পাশে যা যা বলছে সব শোনা যাচ্ছে। রুবা বেগম মেয়েকে কয়েকবার ডাক দিল। তখন তারিন এসে বলে,
ডাকছ কেনো আম্মু?
তানভী ফোন দিয়েছে। তোর সাথে নাকি কথা বলবে। নে ধর কথা বল।
.
তারিন একটু বড়সড় অবাক হয়ে যায়। অনেকদিন বাদে ফোন দিল তানভী। তারিনের নিশ্চুপ দেখে রুবা বেগম বলে উঠে,
কি হলো ধর না।
ও হ্যা! দাও।
.
তারিন ফোনটা হাতে নেয়। মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
আম্মু ফোনটা নিয়ে আমি আমার রুমে চলে গেলাম।
আচ্ছা যা,
.
তারিন ফোনটা নিয়ে রুমে যায়। তানভী এপাশ থেকে ফোন কানে নিয়ে সব শুনতে পায়। তারিন রুমে গিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। অজস্র অভিমানি কন্ঠ নিয়ে তারিন বলে উঠে,
হঠাৎ ফোন দিলেন যে?
.
তানভী তারিনের কন্ঠসর শুনে বিব্রত হয়ে যায়। কন্ঠসর একটুও চেন্জ হয়নি। মেয়েটা বুঝি আগের মত আছে? নাকি আগের থেকে চেন্জ হয়েছে? তারিন তানভীর নিশ্চুপ, নিরবতা দেখে তারিন বলে উঠে,
আপনি কি শুনছেন?
.
তানভী কিছুটা স্বাভাবিক ভাবে বলে উঠে,
জ্বী আছি।
তা কথা বলছেন না যে? কিছু হয়েছে আপনার?
না! আর কি হবে বলো?
মানে? কি হবে, বুঝলাম না?
কিছুনা। তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনলাম। শুক্রবারে নাকি তোমার বিয়ে।
জ্বী! যা শুনেছেন ঠিক শুনেছেন!
.
তানভী আবার তারিনের কথা শুনে নিশ্চুপ হয়ে যায়। কন্ঠে কেমন জানি অভিমান? হাজারো কষ্ট ভয়ে আছে কন্ঠসরের মাঝে! তানভী কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে বলে উঠে,
তুমি কি ইচ্ছে করে বিয়ে করছো?
আপনার কি মনে হয়?
আমি কোন মনোবিজ্ঞানী নই। মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পারবো!
আমি যতটুকু জানি আপনি বুঝতে পারেন।
.
তানভী তারিনের কথায় আবারও নিশ্চুপ হয়ে যায়। তানভী কিছুক্ষণ যাবত নিশ্চুপ থেকে বলে,
আমি এখন রাখছি।
একটা কথা বলতে চাই? যদি অনুমতি দিলে বলতে পারি!
জ্বী! বলো!
আপনি কি এখনও আমাকে ভালোবাসেন?
মানে?
আগে বলতেন ভালোবাসিনা। কিন্তু, আমি যতটুক জানি এখন আমাকে ভালোবাসেন!
.
তানভী নিশ্চুপ হয়ে যায়। কি বলবে বুঝতে পারছেনা। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে তারিন বলে উঠে,
আচ্ছা! আপনি আসবেন কবে?
কেনো?
খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
ও,
আচ্ছা স্যরি।
কেনো?
জানিনা!
আচ্ছা! কালকে একটু আসবেন?
কেনো?
এতো প্রশ্ন করেন কেনো?
আচ্ছা! এখন রাখি!
ভালো থাকবেন।
.
তানভী কিছু না বলে ফোন টা রেখে দিল। ভালো থাকবেন, এর প্রতিউত্তরে কি বললে জানা নেই।

আজ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে খুব তানভীরের। কিন্তু, পারছেনা। কেনো পারছেনা তাও জানে না তানভী।

কিছুক্ষণ বারান্দায় বসে থেকে তানভী রুমের ভেতর চলে যায়। আজ ঘুম পাচ্ছেনা চোখে! কেনো পাচ্ছেনা। কোন উত্তর নেই!

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here