পুলিশীনি (দশম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, July 31, 2019

পুলিশীনি (দশম পর্ব)

পুলিশীনি (দশম পর্ব)

লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম
.
.
হসপিটালের আশেপাশে প্রায় দোকানপাট খোলা থাকে সারারাত। আবার কোন কোন দোকানপাট বন্ধ করে, রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে। কিন্তু শহরের দোকানপাট খোলা থাকে প্রায় বেশি। বেশির ভাগ হসপিটাল, রেলস্টেশন, বাসস্টপ বিভিন্ন বড় বড় যায়গায়, যেখানে মানুষ সারাক্ষণ চলাফেরা করে।

তানভী হসপিটাল থেক বের হয়ে কিছুটা হাঁটার পর একটা রেস্তোরাঁ পায়। কিন্তু সেটা বন্ধ করছে। তানভী দ্রুত সামনের গিকে পা বাড়ায়। অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর পাশের একটা রেস্তোরাঁর ঢুকে পরে। খুব ঘুম পাচ্ছে। যদিও তানভী এরকম সময় জেগে থাকে প্রায়। কখনও পড়াশোনায়, কখনও কবিতার ভেতর ডুবে। কিন্তু আজ খুব ঘুম চোখে নেমে পড়ছে। যদি এসময়ে  গরম গরম কফি, কিংবা চা খাওয়া যায় তাহলে ঘুমের ভাব কিছুটা নিস্তার পাওয়া যাবে। রেস্তোরাঁর ভেতরে গিয়ে বসে একটা কফি অডার দেয়। একটুপর কফি দিয়ে যায়। তানভী সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। গ্লাস বেদ করে চোখটা রাস্তায় চলে যায়। লাল,নীল হলুদ নিয়নলাইট জ্বল জ্বল করছে।
তানভী কফি খেয়ে, কিছু খাবার কিনে নিয়ে যায় নিতুর ফ্যামিলির জন্য। রেস্তোরাঁর বিল দিয়ে, হসপিটালের দিকে পা বাড়ায়।
.
.
হসপিটালে চলে আসে। হসপিটাল প্রায় নিরব। হসপিটালের করিডোরে হেঁটে চলছে। আজ বোধহয় ঘুম হবেনা। এভাবে তো কখনও তানভী ঘুমায় নি।

তানভী রুমের ভেতর ডুকে দেখে নিতু বেডে শুয়ে আছে। নিতুর কাকিমা জিমাচ্ছিল। পাশেই নিতুর মা বসে আছে। তার চোখে ঘুম নেই। সন্তানের অসুস্থ মায়ের ঘুম নেই চোখে। হ্যা, কোন মা পারেনা সন্তানের অসুস্থ হলে ঘুমাতে। নিতুর বোন পাশেই একটা চেয়ারে বসা ছিল। বোনের অসুস্থতা বোনের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

তানভী রুমের ভেতর প্রবেশ করেছে সে দিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। হয়তো মনের ভেতর মা, বোন,কাকিমা, নিতুর অসুস্থতা ভেতর ডুবে আছে। অনেক আদরের মেয়ে।

তানভী পাশে নিতুর মায়ের গিয়ে দাঁড়ায়। তখন নিতুর মা তানভীর দিকে একবার তাকায়। হাতের দিকে তাকায়। খাবার হাতে দেখে কিছুটা চেয়ে দেখে। তানভী আস্তে করে বলে উঠে,
এখানে আপনাদের তিন জনের জন্য খাবার আছে, খেয়ে নিন। অনেক রাত হয়েছে।
.
নিতুর মা কিছু বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। নিতুর বোন মাকে সান্তনা কন্ঠে বলে উঠে,
আম্মু! কেঁদো না। দেখ আপুর কিছুই হয়নি। দেখ কাল ই আপু বাসায় নিয়ে যাব। কিছুই হয় নি আম্মু।
.
নিতুর বোন ভেজা কন্ঠে মাকে সান্তনা দেয়। মা তো সব বোঝে। তাই কিছু না বলে চুপ করে থাকে। নিতুর বোন তানভী দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠে,
ভাইয়া! বসুন।
.
তানভী বসতে বসতে বলে উঠে,
এখানে তোমাদের তিন জনের খাবার আছে খেয়ে নাও। অনেক রাত হয়েছে। বোধহয় রাতে খাওয়া হয়নি। খেয়ে নাও কেমন!
.
খাবের প্যাকেট দিতে দিতে বলে কথাটা তানভী। নিতুর বোন খাবারের প্যাকেট, আর পানির বোতল হাতে নেয়। নিতুর বোনকে বলে,
তোমার কাকিমাকে ডেকে বোতলের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে খেয়ে নাও। আর দেখ আন্টিকে খাওয়ানোর চেষ্টা কর। ওই বেডে তো খালি তোমরা ওখানে খেতে পার। আর যদি আমার সামনে খেতে ইতস্ততবোধ কর। তাহলে, আমি বাহিরে গিয়ে বসি।
.
নিতুর বোন বলে উঠে,
যেতে হবেনা ভাইয়া! আপনি এখানেই বসে থাকুন।
.
নিতুর বোন খাবারের প্যাকেট নিয়ে পাশের ব্রেডে রেখে দেয়। পানির বোতল নিয়ে কাকিমাকে ডেকে, পানির বোতল হাতে দিয়ে বলে, "মুখটা ধুয়ে এসো। খাবার খাব। নিতুর কথায় ঘুম ভেংগে তাকায় নিতুর বোনের দিকে। তার তাকানো দেখে নিতুর বোন বুঝে ফেলে। সে বলতে চাচ্ছে, "খাবার কোথায় পেলি? সেটা বুঝে নিতুর বোন বলে উঠ,"ওই ভাইয়া! খাবার এনেছে।
.
নিতুর বোন মাকে খাবার খেতে ডাকলে সে খেতে যায়। নিতুর বোন, নিতুর কাকিমা খাবার খেতে বসে।

খাবার খেয়ে বসে আছে চেয়ারে। খাবার খেয়ে ঘুমটা নিস্তার পায়। কিন্তু রাত যত গভীর হচ্ছে, তত ঘুম চোখে নেমে আসছে। কিছুক্ষণ পর পর মাথাটা হালে পড়তে ঘুম ভেংগে যাচ্ছে। সেটা লক্ষ করে নিতুর মা বলে উঠে,
ভাবি! আপনি আর ঋতু (নিতুর বোন) ওই বেডে শুয়ে পড়েন।
.
কথাটা শুনে ঘুম ঘুম চোখে পাশের বেডে চলে যায়। সাদা একটা পর্দা টেনে নিয়ে শুয়ে পড়ে দুজন। নিতুর মা চেয়ারের দিকে তাকায়! দেখে, তানভী ঝিমাচ্ছে। কিছু বললো না। নিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে। চোখটা আঁচলে মুঁছে ফেলে। এভাবে বসে থাকে নির্ঘুম হয়ে মেয়ের পাশে।
.
.
ফজরের আজান শুনে তানভীর ঘুম ভেংগে যায়। চারদিকে তাকাতে মনে পড়ে যায়। হসপিটালে বসে বসে ঘুমাচ্ছিল। নিতুর মা নিতুর পাশেই ঘুমিয়ে গেছে। তানভী পাশের পানির বোতলটা হাতে নিয়ে মুখটা ধুয়ে এলো।

চেয়ারে বসে আছে। চারদিকে মসজিদের আওয়াজ ভেসে আসছে, আজান। শুনতে বেশ ভালো লাগে। প্রায় কিছুক্ষণ বসে থাকার পর নিতুর দিকে চোখ পড়তে তানভী এগিয়ে যায়। নিতুর জ্ঞান ফিরে ফেরে। নিতু চোখ খুলে চারদিকে তাকিয়ে আবিষ্কার করে হসপিটালে। মাথায় একটু হাত দেয়। কিছুটা ব্যথা অনুভব করে। নিতুর হাতের উঁচু করতে নিতুর মার ঘুম ভেংগে যায়। নিতুর মা জেগে উঠে। নিতুকে দেখে মনে তার ভেতরে আস্থা এসেছে। চোখ দিয়ে পানি ছেড়ে দেয় নিতুর। মেয়েকে বোধহয় খুব খুব ভালোবাসে।
মামনি তোর জ্ঞান ফিরেছে। আল্লাহর কাছে লাক্ষ লাক্ষ কোটি শুকুরিয়া।
.
নিতুর ঠোঁট কাপছে । কিছু বলবে বলে। তখন তানভী পাশে গিয়ে আস্তে করে বলে,
আপনি এখন হসপিটালে। কাল বাইক নিয়ে এক্সিডেন্ট করেছিলেন। মাথায় কিছুটা আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। ঠিক হয়ে যাবেন।
.
কিভাবে হলো এসব?
সেটা পরে জানতে পারবেন। এখন কেমন লাগছে? কিছু কি মনে পড়ছে!
না! মাথা ব্যথা করছে খুব।
ঠিক আছে। সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন বিশ্রাম নিন। এখন এসব কিছু মনে করতে হবেনা।
.
নিতুর মা কেঁদে কেঁদে বলে উঠে,
মামনি! কিভাবে এক্সিডেন্ট হলো। কত করে বললাম আজ যাস না। না, শুনলিনা আমার কথা।
.
নিতুর মাকে উদেশ্য করে তানভী বলে,
-আন্টি! প্লীজ এসব বলে কি হবে। যা হবার তো হয়েগেছে। আর ডক্টর বলেছে, "রুগিকে বেশি কিছু জিজ্ঞেস না করতে। এতে মাথায় সমস্যা হবে। ব্রেনে আঘাত হানি হবে।
.
কিছুক্ষণ কথা হয় তাদের নরমাল ভাবে। কিছুক্ষণ পর ঋতুর আর কাকিমার ঘুম ভেংগে যায়। তানভী পানির বোতল দিয়ে বলে, "মুখটা ধুয়ে আসেন। তারা বোতল নিয়ে মুখ ধুয়ে আসে।

 সকাল ১০ টার দিকে ডক্টর ও নার্স এসে ট্রিটমেন্ট নিয়ে একটা ইনজেকশন দেয়। পরে তারা কিছু বলে চলে যায়। সবাই বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছেনা। মনের ভেতর অজানা ভয় বাসা বেঁধেছে।

সকালের খাবার তানভী রেস্তোরাঁর  খেয়ে, নিতুদের জন্য খাবার নিয়ে হসপিটালে চলে আসে। সবাই খাবার খায়। এবার তানভীর বিদায়ের পালা। তানভীর ফোন দিয়েছিল। খালাম্মার বাসায় যেতে বলেছে তাড়াতাড়ি। খালাম্মা নাকি বিকালের মধ্যে যেতে বলেছে। তাই এবার নিতুদের থেকে বিদায় নিবে। তানভী বলে উঠে,
এবার তাহলে আসি আন্টি। আম্মু ফোন দিয়েছিল। তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলেছে।
তোমাকে কি বলে যে ধন্যবাদ জানাবো। তোমার এই উপকার আমরা কোন দিন ভুলবোনা। (নিতুর মা)
আরে আন্টি! এসব বলে নিজেকে ছোট করবেন না। (তানভী)
আল্লাহ তোমাকে জাযাকাল্লাহ খাইরান (উত্তম বদলা) দান করুক।
.
পাশ থেকে নিতু বলে উঠে,
আপনি চলে যাবেন।
.
তানভী একটু হেসে বলে,
হুম।
আপনার নাম্বারটা দিবেন।
.
তানভী সবার দিকে তাকায়। কিছুটা লজ্জা নিয়ে বলে,
না মানে।
.
ফোনটা এগিয়ে দেয় তানভী। নাম্বারটা সেভ করে দিয়ে বলে,
-আমার নাম্বারটা সেভ করে দিয়েছি,
.
কিছুক্ষণ কথা বলে তানভী বিদায় নেয় নিতুদের কাছ থেকে। তানভী বাসায় ফিরে আবার খালাম্মার বাসার যাবে। তানভী করিডোর হেঁটে হসপিটাল থেকে রাস্তায় চলে আসে। গাড়ি চড়ে বাসার উদেশ্যে রওনা দেয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here