পাগলী বউ (প্রথম পর্ব) - Mahbub Ullah

Breaking

Sunday, June 23, 2019

পাগলী বউ (প্রথম পর্ব)

পাগলী বউ (প্রথম পর্ব)
লেখা- নাসির ইসলাম মাহিম

এই শুনো?
কী! বলো?
এই নাও তোমার মোবাইল রেখে যাচ্ছিলে।
ওহ্! আমার তো মনে নেই। ধন্যবাদ 
আর ধন্যবাদ দিতে হবে না,
ঠিক বুঝলাম না তোমার কথাটা! 
তোমার না বুঝলে হবে। যাও অফিসের লেট হয়ে যাচ্ছে।
ও হ্যা, যাই কেমন।
এই তুমি আমাকে টার্চ করবানা। আমার ভালো লাগেনা আর এসব

কথাটা বলে রিমি চলে যায় ওয়াশরুমে। রিমির ব্যবহারটা ঠিক বুঝলাম না? হঠাৎ এমন মুখ মলিন হয়ে গেলো! আর কপালে চুমু দিতে দিলনা! আশ্চর্য ঘটনা! আমি একবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি অফিসের লেট হয়ে যাচ্ছে। তাই রিমির ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারলাম না। 
কি মনে করে আবার দরজার কাছ থেকে ফিরে এলাম রুমে। আশ্চর্য ব্যাপার! রিমি এখনও ওয়াশরুম থেকে বের হয়নি! কিছুতো হয়নি? একবার নক করে দেখব? সেটা কি ঠিক হবে? রিমি তো এসব নোংরা, নেগেটিভ পছন্দ করে না। এগুলা ভাবতে ভাবতে তপু ওয়াশরুমের দরজায় নক করে ফেলে,"রিমি! এই রিমি।

কোন সারাশব্দ না পেয়ে তপু আরও ভয় পেয়ে যায়। মেয়েটার কিছু হয়নি তো? না না এসব আমি কি ভাবছি!
রিমি,,,এই রিমি। আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?
হুমম
ওয়াশরুম থেকে চাপা কন্ঠসর ভেসে আসে। কাঁদছে না তো মেয়েটা? আরে কাঁদবে কেনো মেয়েটা! আমি তো সেরকম কিছুই করি নি? ভাবতে ভাবতে তপু বলল,
রিমি! তুমি ঠিক আছো তো?
হুমম।

আবারও চাপা কন্ঠসর ভেসে আসে। তপু কিছু একটা আচ করছে। তখন ভেতর থেকে বলে উঠল,
তুমি এখনও অফিসে যাও নি! অফিস তো লেট হয়ে যাচ্ছে।
তুমি ঠিক আছো তো রিমি?
হ্যা
সত্যি বলছো তো রিমি?
হুম।
সেই কখন ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকেছো, এখন বের হচ্ছ না যে। কোন প্রব্লেম হয়েছে কি? 
না। বাথরুমে ছিলাম। তুমি অফিসে যাও।

তপু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কি ভয়টা না পেয়েছিল। যাক বাবা সেরকম কিছুই ঘটেনি। তপু ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে দেখে ১০ মিনিট লেট হয়ে গেছে। তাড়াহুড়া করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আজ বসের কাছে বকা খেতে হবে। এই একটা জিনিস সবচেয়ে বাজি, নোংরা জিনিস! অন্যের অধিনে কাজ করলে, কিছু একটা হলে এক গাধা বকাজকা শুনতে হয়। কি আর করা, সবাই তো আর বিজনেসম্যান না যে, সবাই বস হবে। আর নিজের মতন করে অফিস করবে। 

তপু অফিসে চলে যায়। এদিকে রিমি আরও কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়। রিমি সিয়র হয় যে তপু ঠিক অফিসে গিয়েছে কিনা। যখন আর কোন ডাকাডাকি নেই। তখন রিমি বুঝতে পারে তপু অফিসে চলে গেছে।
রিমির চোখ ফুঁলে গেছে। কিছুক্ষন কাঁন্নাকাটি করেছে ওয়াশরুমের ভেতর গিয়ে। আর একটুর জন্য,! নাহলে তপু রিমির চোখের পানি দেখতে পেত। কিন্তু, রিমি তাড়াতাড়ি করে ওয়াশরুমে চলে যায়। 

রিমি শুয়ে পড়ে। কিছুই ভালো লাগছেনা। আজ হঠাৎ এমন কিছু দেখবে! ভেবে কোন উত্তর পায়না রিমি! তপু,, ছিঃ ছিঃ, ভাবতে ঘৃণা জন্ম হচ্ছে তপুর প্রতি। এতটা বিশ্বাসঘাকতা করতে পারলো তপু। ভাবতে রিমির গা'টা শিউরে উঠে। নাহ্। আমি জেনে শুনে তপুর পথের কাটা হতে চাই না। তপু যদি তাকে নিয়ে সুখে থাকে। তাহলে থাকুক না। আমি কেনোই বা, তাদের মধ্যেই প্রাচীর দেওয়াল হয়ে দাঁড়াব। নাহ্। এটা তো আমার পক্ষে সম্ভবনা। আমি মুক্ত দিয়ে দেব তপুকে। তপু তাকে নিয়ে সুখে থাকুক। এটাই আমার সুখ। রিমি কথাগুলি মনে মনে বলে আর মাথার নিচে থাকা বালিশ, চোখের অশ্রুর দিয়ে ভিজিয়ে ফেলে।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায়। তবুও রিমি বিছানায় শুয়ে আছে। দুপুরে খাইনি এখনও। তপু ফোন না দেওয়া পর্যন্ত খায়না রিমি। আজ কেনো দিচ্ছে না? হয়তো পাশের ডেক্সটপে বসে থাকা রুপুসির সাথে লাঞ্চপ্যাকেটে লাঞ্চ করছে। বাসায় বউ আছে একটা, সেটা কি মনে আছে। পাশের রুপুসি পেয়ে সবাই প্রেয়সীকে ভুলে যায়। হয়তো তপুরও ব্যতিক্রমী নয়। রিমি এসব ভাবে আর চোখের অশ্রু মুঁছতে থাকে। 

এদিকে তপুর কাজের চাপ প্রচুর। লাঞ্চ করেনি এখনও। অফিসে লেট করে আসাতে বকাজকার অভাব হয়নি। অফিসের বস বকাজকা করার পর এক গাধা কাজ দিয়ে ডেক্সটপে পাঠিয়ে দেয় তপুকে। ভালো লাগেনা প্রায় এরকম বকাজকা শুনতে। মন চায় চাকরি ছেড়ে দিতে। কিন্তু, চাকরি ছেড়ে দিলে, চাকরি পাবে কোথায় আবার। সবদিক দিয়ে চাকরিটা ভালো আছে। শুধু মাঝে অফিসের বস বকাজকা করে। শুধু আমাকে না, বরং অফিসের সবাইকে। 

শুনেছি বউ'এর সাথে ঝগড়া হলে নাকি। সেই রাগটা যাদের কাছে রাগ দেখানো যাবে। সেখানে সেই রাগের প্রয়োগ করে। 

একটু পর কাজের চাপ হালকা করে তপু। লাঞ্চ করার জন্য ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে।
ফ্রেশ হয়ে এসে ফোনটা হাতে নেয় তপু। কিছু একটা ভাবে তারপর ফোন দেয় রিমিকে। ফোন রিং হয়, কিন্তু ফোন রিসিভ করছে না রিমি। ফোন রিং হয়ে কেটে যায়। তপু আবার কল দেয় রিমিকে। বরাবরের মত ফোন রিং বেজে কেটে যায়। তপু ভাবে ফোন রেখে ওয়াশরুমে চলেগেছে বোধহয়। তপু আর কল না দিয়ে লাঞ্চ করতে চলে যায়।

এদিকে রিমি ফোন হাতে নিয়ে আছে। তপু কল দিচ্ছে জেনে কল ধরে নি। মনের ভেতর এক খোপ লেগে আছে। মনে মনে বলে উঠে, রুপুসির সাথে লাঞ্চ শেষ করে এখন ফোন দিচ্ছে বউকে। আমার বয়ে গেছে ওর ফোন ধরতে। ফোন রেখে ওয়াশরুমে চলে যায় রিমি। 

লাঞ্চ শেষ করে আবারও ফোন দেয় রিমিকে । কিন্তু, বরাবরের মত ফোনের রিং বেজে কেটে যায়। তপু কিছু না ভেবে আবারও কাজে মন দেয়। বিকালে রিমিকে কল দিলাম কিন্তু কল কেটে দেয়। আমি বুঝে গেছি কিছু একটা হইছে তাই কল ধরছে না। কিন্তু কিছু একটা কি হয়েছে? কিছু একটা, কি হয়েছে? বুঝতে পারছিনা। অফিস থেকে বের হলাম বাসায় যাবার জন্য। আজ কপালে কী যে আছে আল্লাহ জানে?

No comments:

Post a Comment